আসন্ন বাজেটে তামাক পণ্যে কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি
ঢাকা, ১৩ মে, ২০২৬ (বাসস) : জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর কর আরোপ ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আজ বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পূয়র (ডর্প) আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কার্যকরভাবে সব তামাকপণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ক জাতীয় সেমিনারে এ দাবি জানানো হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, তামাকপণ্য সহজলভ্য হওয়ায় তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে গতানুগতিকভাবে তামাকপণ্যের দাম বাড়ালেই হবে না, বরং তা মূল্যস্ফীতি ও মানুষের আয় বৃদ্ধির চেয়েও বেশি হারে বৃদ্ধি করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব (ভ্যাট, মনিটরিং ও আইটি) নাহিদ নওশাদ মুকুল বলেন, তামাক পণ্যের বর্তমান কর কাঠামোর কারণে সরকার বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সুযোগ হারাচ্ছে। এই বিশাল অর্থ দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, কার্যকর তামাক কর বাস্তবায়ন করা গেলে ধূমপান কমবে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে এবং একই সঙ্গে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে বর্তমানে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও অতি উচ্চÑ এই চার স্তরের সিগারেট বিদ্যমান। এর মধ্যে বাজারে বিক্রিত সিগারেটের প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের, যা সহজলভ্য হওয়ায় যুবসমাজ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে দ্রুত আসক্ত করে তুলছে।
তিনি বলেন, আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে দাম বৃদ্ধি করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের সর্বনিম্ন দাম ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা ও অতি উচ্চ স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সকল স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তামাকপণ্যে এই কর ও মূল্য প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা গেলে ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি তরুণ জনগোষ্ঠীর অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।
জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল-এর মহাপরিচালক মো. আখতারউজ-জামান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি (৩৫.৩ শতাংশ) এবং তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। ২
তিনি বলেন, তামাক খাতকে শুধু রাজস্ব আয়ের চশমা দিয়ে না দেখে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর করনীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন ডর্প-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এএইচএম নোমান এবং সমাপনী বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন। সঞ্চালনা করেন উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ডর্প তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রতিনিধি জেবা আফরোজা প্রমুখ।