ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি ইরান: ট্রাম্প
ঢাকা, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান শান্তিচুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তার দাবী, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে; যা আলোচনার বড় বাধা ছিল।
এর আগে চুক্তি না মানলে আবারও বিমান হামলা শুরু এবং ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বহাল রাখার হুমকি দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
এদিকে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, দু’দেশের নেতা আগামী ‘চার বা পাঁচ দিনের মধ্যে’ হোয়াইট হাউসে সফর করবেন।
তবে হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সংগঠনটির এক শীর্ষ নেতা জানান, ইসরাইল হামলা বন্ধ করলে তারা যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি শুরুর ঠিক আগে লেবানন থেকে রকেট ছোড়ার পর পাল্টা হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।
উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলাদা একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
একই সময় পাকিস্তান নতুন করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংলাপ আয়োজনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত সপ্তাহে প্রথম দফা আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন গালিবাফ। যদিও বৈঠকটি কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
পরে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় তেহরান ‘সতর্কভাবে আশাবাদী।’ তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল’ প্রত্যাশা করেন বলেও জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিলে অবরোধ চলবে এবং অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনায় বোমা হামলা চালানো হবে।’
যদিও ট্রাম্প পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘চুক্তি হওয়ার খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের কাছে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ ফেরত দিতে রাজি হয়েছে।’ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত বোঝাতে তিনি এই শব্দ ব্যবহার করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী এগুলো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে এই হস্তান্তর কীভাবে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। ইরানও প্রকাশ্যে এমন কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
-ইউরেনিয়ামে ‘অখণ্ড’ অধিকার-
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধকরণের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
তেহরান দ্রুত পারমাণবিক বোমা তৈরির পথে এগোচ্ছে দাবী করেই এই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। তবে জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থা এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি।
খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত চায়। অন্যদিকে তেহরান পাঁচ বছরের জন্য স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু সেই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বলে দাবী করে আসছে।
বুধবার তেহরান জানায়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করায় তাদের ‘সার্বভৌম’ অধিকার রয়েছে; তবে সমৃদ্ধির মাত্রা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের একটি প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। সেখানে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার সুপরিশ বলা হয়েছিল।
ব্যয় বৃদ্ধি, অনিশ্চিত পরিণতি ও বড় সংঘাতের আশঙ্কায় ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবটি উত্থান করেছিলেন।
-‘অতল গহ্বর’-
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী বৈঠক খুব সম্ভবত ইসলামাবাদে হতে যাচ্ছে।
তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, পরবর্তী বৈঠকের কোনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স প্রথম দফা আলোচনায় নেতৃত্ব দেন। তিনি জানান, ইরানকে যুদ্ধ শেষ ও দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ মেটাতে একটি বড় চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, ইরান ‘ঐতিহাসিক এক মোড়ে’ দাঁড়িয়ে আছে। চুক্তির পথে না গেলে তা অতল গহ্বরে তলিয়ে যাবে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহন হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলার পর থেকে সেখানে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধই জাহাজ চলাচল প্রধান ইস্যু।
গ্রিনিচ মান সময় ২১টার দিকে ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুডের দাম ৩.২৪ শতাংশ বেড়ে ৯৮.০১ ডলারে পৌঁছায়।
ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোতে অবরোধ জোরদার করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, ইরানের বন্দর থেকে ছাড়তে চাওয়া ১৩টি জাহাজ ফিরিয়ে দিয়ে সমুদ্র দেশটির বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে।
বুধবার ইরানের তেলখাতে নতুন নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, এতে ‘শাসকগোষ্ঠীর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা’ লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।
ওয়াশিংটন পিছু না হটলে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে কোনো আমদানি-রপ্তানি চলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান আলী আবদোল্লাহি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির এই সামরিক উপদেষ্টা সতর্ক করে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ‘পাহাড়া’ বসাতে চায়, তাহলে প্রণালিতে মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হবে।