বাসস
  ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:৩৫

টেলিগ্রামে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ : প্রতারক গ্রেফতার

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): অনলাইন প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামে টাস্ক সম্পন্নের মাধ্যমে আয় করার প্রলোভন দেখিয়ে এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের আরও এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)-এর সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের একটি দল গতকাল যাত্রাবাড়ি থানার ধলপুর এলাকা থেকে প্রতারক মো. সোহেল মিয়াকে (৪১) গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ বলা হয়, একজন বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী প্রতারক চক্রটি চারটি পৃথক বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও নয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতারণা করে মোট ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা আত্মসাৎ করে।

বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি অজ্ঞাত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তাকে অনলাইন পার্টটাইম কাজের প্রস্তাব দেয়া হয়। বাসায় বসে অবসর সময়ে কাজ করে আয় করা যাবে এমন আশ্বাসে তিনি রাজি হন। পরে প্রতারকদের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি সাইটে ওয়ালেট খুলে টাস্ক সম্পন্ন করে প্রথম দফায় ১৫০ টাকা আয় করেন।

পরবর্তীতে ২৮টি টাস্ক সম্পন্ন করলে ৩৮ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। বাদী ১৪টি টাস্ক সম্পন্ন করে ২ হাজার ১০০ টাকা আয় করেন। এরপর প্রতারক চক্র ২ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে ২ হাজার ৮০০ টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে নতুন একটি টাস্ক দেয়। টাস্ক সম্পন্নের পর ওয়ালেটে টাকা জমা দেখালেও তিনি অর্থ উত্তোলন করতে ব্যর্থ হন।

প্রতারকদের জানালে তারা একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলে এবং তা না করলে জমাকৃত অর্থ উত্তোলন সম্ভব হবে না বলে জানায়। এভাবে ধাপে ধাপে প্রলোভন দেখিয়ে চারটি বিকাশ ও নয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা আত্মসাৎ করে চক্রটি।

এতে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে প্রতারক চক্র বাদীকে প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে বাদী ডিএমপির লালবাগ থানায় গত বছরের ২১ মে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর সিআইডি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রতারক চক্রের মূলহোতা নাদিম (৩২) কে গ্রেফতার করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং অন্যান্য আসামিদের নাম প্রকাশ করেন

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) পরিচালনা করছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা সদস্যদের শনাক্তকরণ এবং অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।