নিজার আমেদি ইরাকের নতুন প্রেসিডেন্ট
ঢাকা, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ইরাকের আইনপ্রণেতারা শনিবার নিজার আমেদি-কে দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ভোটগ্রহণ ও নতুন সরকার গঠন বিলম্বিত হওয়ার পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
বাগদাদ থেকে এএফপি জানায়, নির্বাচিত হওয়ার পর আমেদির সামনে ১৫ দিনের মধ্যে একজন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকিই এই পদে আসতে পারেন, যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই পছন্দ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানে হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তৈরি করেছে এমন এক প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরকারি আল-ইরাকিয়া টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার ভোট পেয়ে আমেদি শপথ নেন এবং তিনি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট আবদুল লতিফ রশিদের স্থলাভিষিক্ত হন।
৫৮ বছর বয়সী সাবেক পরিবেশমন্ত্রী আমেদি কুর্দি অঞ্চলের অন্যতম ঐতিহাসিক দল প্যাট্রিওটিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তানের দীর্ঘদিনের নেতা।
ইরাকে প্রচলিত রাজনৈতিক রীতিতে প্রধানমন্ত্রী হন শিয়া সম্প্রদায়ের কেউ, সংসদের স্পিকার হন সুন্নি এবং তুলনামূলক আনুষ্ঠানিক প্রেসিডেন্টের পদটি কুর্দিদের জন্য বরাদ্দ থাকে।
গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জানুয়ারিতে হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে তা দুইবার স্থগিত করা হয়।
এদিকে জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাকের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে সতর্ক করেছিলেন—যদি মালিকিকে আবার প্রধানমন্ত্রী করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে আর সহায়তা করবে না।
এই হুমকিতে ইরাকের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বিশেষ করে ইরানঘনিষ্ঠ শিয়া জোট ‘কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ বিপাকে পড়ে, যারা মালিকিকে মনোনয়ন দিয়েছিল।
ফেব্রুয়ারিতে মালিকি এএফপিকে বলেন, তিনি তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না, তবে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করবেন।
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসক সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করার পর থেকে ইরাকের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। তবে একই সঙ্গে বাগদাদের আরেক প্রধান মিত্র ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বৈরী।