বাসস
  ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪৯

নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকায় ৩৫ হাজার পুলিং অফিসারকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে: বিভাগীয় কমিশনার

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ফাইল ছবি

মোশতাক আহমদ

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে ৩৫ হাজার পুলিং অফিসারকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। 

আজ রোববার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি যেদিন ইলেকশনের শিডিউল ডিক্লেয়ার করা হয়েছে সেদিন থেকেই নেয়া হয়েছে। এবং যেভাবে আমাদের গাইডলাইন দেয়া হয়েছে; গাইডলাইনের যে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে আমরা এই গাইডলাইনের ভিতরেই আছি।’

তিনি বলেন, এখন নির্বাচন কমিশন থেকে যাদের নমিনেশন বাতিল হয়েছে তাদেরটা তাদের আপিল চলছে এবং আপিলের কাজটা দ্রুতই শেষ হবে। এটা শেষ হওয়ার পরে আমরা হয়তো কিছু সময় পাবো।

তিনি বলেন, ‘আবার যারা আপিলে টিকে যাবে তাদের তালিকাসহ আমরা আবার নতুন প্রার্থী পাবো। পাওয়ার পরে আমাদের বৈধ প্রার্থীদের যে তালিকা ছিল সেটি আমরা আপডেট করবো। আপডেট করে আমরা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করব।’

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে অন্যান্য যেসব প্রস্তুতির বিষয় আছে যেমন আমাদের নির্বাচনী সেন্টারগুলো পরিদর্শন করা। সেন্টারগুলো কি অবস্থায় আছে সেটা দেখা গুড সেন্টারগুলার যেমন এইবার একটা বিষয় আছে সিসিটিভিটা যদি ইনক্লুড করা যায় কিনা বা সেসব প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরা আছে কিনা জানার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, যেসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে তা যেন কার্যকর থাকে এরকম একটা ভোট সেন্টারকে প্রস্তুত করতে যেরকম বিষয় লাগে ওগুলো আমরা দেখছি। পুলিং পার্সোনালদের আমরা তালিকা করছি অলরেডি নির্বাচন কমিশন থেকে করা হয়েছে। আগামী ২২ তারিখ থেকে তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে। ঢাকা সিটিতে ১৩টা আসন। ১৩টা আসনে প্রায় ১০,০০০ প্লাস আমার ভোট কক্ষ আছে। প্রতিকেন্দ্রে তিনজন যদি হয় এবং প্রতি সেন্টারে একজন রিটার্নিং প্রিজাইডিং অফিসার দিতে হয় এবং কিছু সারপ্লাস রাখতে হয়। সবমিলে আমার প্রায় ৩৫,০০০ এর উপরে নির্বাচনে অফিসার লাগে। পুলিং পার্সোনাল লাগে। তাদের প্রশিক্ষণের কাজটা শেষ করতে হবে। তো এটা আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা ভেনুগুলো ঠিক করেছি। আমরা ২২ তারিখ থেকে প্রশিক্ষণে চলে যাব।

কমিশনার বলেন, ‘একই সঙ্গে আমাদের মোবাইল কোড ম্যাজিস্ট্রেট যারা আচরণবিধির ম্যাজিস্ট্রেট তারা কাজ করছে। প্রতি আসনে দুইজন করে দিয়েছি। ১৩টা আসনে ২৬ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে। তাছাড়া ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি কমিটি কাজ করছে। সব মিলিয়ে আমাদের প্রস্তুতি যা আছে; আমরা আশা করছি যে আমরা একটা ভালো নির্বাচন করতে পারব।’

কমিশনার বলেন, ঢাকা সিটির ভিতরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে খুব বেশি সমস্যা হবে না। কারণ এটা ঢাকার রাজধানীর। রাজধানী সচেতন আছে সবার নজর আছে এখানে এটা আমি মনে করি না খুব বেশি চ্যালেঞ্জ হবে।

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় প্রার্থীরা যদি আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলে তাহলে এটা খুব বেশি সমস্যা আমি মনে করি না। আমরা এখন পর্যন্ত আশা করি এমন কোন বড় কিছু হয় নাই। তবে বিচ্ছিন্ন কয়েকটা ঘটনা আপনারা দেখছেন কিছু মিডিয়াতে আসছে। এগুলো নির্বাচন কেন্দ্রিক না।’

তিনি বলেন, আসলে আমরা মিডিয়া থেকে যতটা দেখেছি বিভিন্ন ঘটনায় কোনটাই আসলে নির্বাচন কেন্দ্রিক না আমার কাছে মনে হয়েছে।

তবুও প্রার্থীদেরকে আরো সচেতন হওয়ার জন্য আপনার কোনো নির্দেশনা থাকবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, হ্যাঁ অবশ্যই আমরা যখন মনোনয়ন পত্র যেদিন বাছাই করছিলাম তো সব প্রার্থীরাই তো ছিলেন, প্রত্যেকটা আসনে প্রত্যেকের প্রতি আমরা অনুরোধ রেখেছি যে তারা যাতে আচরণবিটা মেনে চলেন এবং তাদের যারা সমর্থকরা আছেন শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন তাদেরকে যাতে তারা একটা নির্দেশনা দেন যে সবাই যাতে আচরণবিধি মেনে চলেন। কারণ এইবারের নির্বাচনটা আমরা সবাই চাচ্ছি যে দীর্ঘদিন পরে ভালো একটা ইলেকশনের প্রত্যাশা জাতির; তো জাতির প্রত্যাশার সঙ্গে তারা যাতে সঙ্গতিপূর্ণ আচরণ করেন। এই আহ্বান আমি সবার প্রতি রাখছি।

কমিশনার বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত প্রার্থীদের দিক থেকে বড় কোনো ভায়োলেশন পাই নাই। টুকটাক একটু একটু অভিযোগ আছে। এটা অনেক সময় না বোঝার কারণে হয়ে যাচ্ছে। এবং বিভিন্ন জন বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন মানুষ হয়তো কথা বলছেন। অনেক সময় বুঝতে না পারার কারণেও সামান্য কিছু ভুল বুঝাবুঝি হয়তো কোথাও কোথাও হচ্ছে। এটা আমরা সহজ করে ফেলছি। তারাও বলছেন যে আমরা আসলে এভাবে দেখি নাই চিন্তা করে, তো তারাও চেষ্টা করছেন। সেইসঙ্গে তিনি জনগণের প্রতি গণভোটের আহ্বান জানান।