শিরোনাম

ঢাকা, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ আলোকচিত্র উৎসব ‘ছবি মেলা ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ফটোগ্রাফি ২০২৬’-এর ১১তম আসর আগামী ১৬ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকায় শুরু হবে।
আজ শনিবার ধানমন্ডির দৃকপাঠ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৬ দিনব্যাপী এই উৎসব চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এবং সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
দৃক পিকচার লাইব্রেরি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের যৌথ আয়োজনে ২০০০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ছবি মেলা। আন্তর্জাতিকভাবে এটি বিশ্বের অন্যতম অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোকচিত্র উৎসব হিসেবে স্বীকৃত।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উৎসবের প্রধান উপদেষ্টা ও আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, উৎসব পরিচালক এ এস এম রেজাউর রহমান, কিউরেটর মুনেম ওয়াসিফ ও সরকার প্রতীক, আলোকচিত্রী জান্নাতুল মাওয়া এবং শিক্ষা পরিচালক খন্দকার তানভীর মুরাদ।
উৎসবের পথচলা স্মরণ করে ড. শহিদুল আলম বলেন, স্থিতিস্থাপকতা ও অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই ছবি মেলার জন্ম।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার সময়েও আমরা বিশ্বাস করেছি, এই উৎসব চালিয়ে যেতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি এমন এক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে মানুষ নতুনভাবে একে অপরের কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এবং স্থায়ী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে।’
তিনি আরও বলেন, পরামর্শদান (মেন্টরশিপ) ও ধারাবাহিকতাই এখন উৎসবের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে, যেখানে পাঠশালার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
উৎসব পরিচালক এ এস এম রেজাউর রহমান বলেন, এবারের ১১তম আসরটি পূর্ণাঙ্গভাবে আয়োজন করা হচ্ছে ‘পুনঃ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে— যার অর্থ আবার, নতুন করে কিংবা ভিন্নভাবে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব যখন নতুন সূচনা খুঁজছে, আমরা সেই চেতনায় ছবি মেলাকে নতুনভাবে কল্পনা করেছি।’
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, দৃকপাঠ ভবন এবং জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা-ঢাকার এই পাঁচটি ভেন্যুতে এবারের ছবি মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এবারের আয়োজনে পাঁচ মহাদেশের ১৮টি দেশের ৫৮ জন শিল্পীর কাজ নিয়ে মোট ৯টি প্রদর্শনী থাকবে।
কিউরেটর মুনেম ওয়াসিফ ও সরকার প্রতীক প্রদর্শনীগুলোর ধারণাগত দিক তুলে ধরেন।
উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনীর মধ্যে রয়েছে ‘(আন)লার্নিং প্যালেস্টাইন’, যার কিউরেট করেছেন ইয়াসমিন ঈদ-সাব্বাহ ও লালেহ বার্গম্যান হোসেন। প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে “(আন)লার্নিং প্যালেস্টাইন” প্রদর্শনী, যা কিউরেট করেছেন ইয়াসমিন ঈদ-সাব্বাহ ও লালেহ বার্গম্যান হোসেন। এতে একটি পাঠকক্ষ থাকবে যেখানে বই, চিঠি, অঙ্কন ও আলোকচিত্রের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
সরকার প্রতীক জানান, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মূল প্রদর্শনীতে অ্যাডাম ব্রুমবার্গ, আর্নেস্ট কোল ও সৈয়দ মোহাম্মদ জাকিরের কাজ প্রদর্শিত হবে, যেখানে ইতিহাস, মানুষ ও পরিবেশের মধ্যকার সম্পর্ক অনুসন্ধান করা হয়েছে।
এ ছাড়াও, উৎসবে আলেসান্দ্রা সাঙ্গুইনেত্তি, বানি আবিদি ও আমানুল হকের তিনটি একক প্রদর্শনীও থাকছে। এতে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, গ্রামীণ জীবন এবং সত্যজিৎ রায়ের বিরল আলোকচিত্রসহ আর্কাইভাল ছবি।
তদুপরি, ‘ঢেউ’ শিরোনামে ছবি মেলা ফেলোশিপের মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া নয়জন শিল্পীর কাজও প্রদর্শিত হবে।
ছবি মেলা একটি অলাভজনক উদ্যোগ, যা সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এবং ঢাকা আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, ব্রিটিশ কাউন্সিল, গ্যোথে ইনস্টিটিউট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ মিশনসহ ১৬টির বেশি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়।