বাসস
  ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৩
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৫

শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান ইইউ’র

ছবি : বাসস

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস আইজাবস বলেছেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছভাবে আয়োজন করা জরুরি।

আজ রোববার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এই নির্বাচন ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছভাবে আয়োজন করা জরুরি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইইউ পর্যবেক্ষক দলের কাজও জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ  ইওএম) নিযুক্ত করেছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য আইজাবসের নেতৃত্বে মিশনটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকের আসার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় নিযুক্ত হবেন। ২০০৮ সালের পর এবার দেশে প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন হিসেবে এটি চিহ্নিত হবে।

প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, মিশনটি নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, বিচার বিভাগ, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচন প্রস্তুতি, আইনগত কাঠামো ও এর বাস্তবায়ন, প্রচারণা কার্যক্রম এবং নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তি।

আইজাবস বলেন, ইইউ ইওএম নারী, যুবক এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীসহ রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণের সামগ্রিক পরিবেশও মূল্যায়ন করবে।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণ ইউনিটগুলো ভোটাররা কতটা তথ্যসমৃদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হচ্ছেন, তা মূল্যায়ন করবে।

আইজাবস বলেন, এই নির্বাচনে আমাদের কারিগরি মূল্যায়ন তিনটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে— স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা এবং হস্তক্ষেপহীনতা। আমরা দীর্ঘমেয়াদি ও  দেশব্যাপী নির্বাচন পর্যবেক্ষণে একটি শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি প্রয়োগ করব। আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করব, কিন্তু ফলাফল প্রত্যয়ন করব না। এই নির্বাচন কেবল বাংলাদেশের জনগণের।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইইউ বিশ্বাস করে বাংলাদেশ একটি অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম।

মিশনটির পূর্ণাঙ্গ জনবলে ইইউ’র সব সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক যুক্ত হবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকায় অবস্থানরত ১১জন  বিশ্লেষকের একটি মূল দল, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক, ভোটের ঠিক আগের দিন নিযুক্ত ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরা। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দলও মিশনকে আরো শক্তিশালী করবে।

ইইউ ইওএম ১৪ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ ভোটের দুই দিন পর ঢাকায় একটি প্রাথমিক বিবৃতি প্রকাশ করবে এবং সংবাদ সম্মেলন করবে। ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ তুলে ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রায় দুই মাস পর প্রকাশিত হবে এবং কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

ইইউ ইওএম পর্যবেক্ষকরা কঠোর আচরণবিধি মেনে এবং মিশনটি ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নীতিমালার ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হয় বলে জানান আইজাবস।