বিএসইসি পাবলিক অফার রুলস ২০২৫-এর উপর সিএসই’র কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) পিএলসি’র আয়োজনে আজ চট্টগ্রামস্থ সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে ‘বিএসইসি (পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫ : এর প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত, সম্ভাবনাময় এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিগণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের(বিএসইসি) অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর ড. মো. ইকবাল হোসেইন, ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট এইচ এ মামুন এবং সিনিয়র ম্যানেজার মো. খালেদ হাসান, সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার, চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মাহাদি হাসান এবং সিএসই’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, বিএসইসির পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ রুলসে সাম্প্রতিক বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে, যেগুলো সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা এবং উপযুক্ত প্রয়োগ করার জন্য এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠান এবং যেসব প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারের সাথে ভবিষ্যতে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জানা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই যদিও ঢাকা কেন্দ্রিক, তবুও আপনাদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে চট্টগ্রামভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার ব্যাপারে আরও উদ্যোগী হবেন।
তিনি আরও বলেন, এই আইনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নতুন আইন অনুযায়ী সব ধরনের রিকোয়ারমেন্টস পূর্ণ করলে দ্রুততম সময়ে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। বিশ্বব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির উৎস হচ্ছে পুঁজিবাজার। তাই প্রতিষ্ঠানসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করানোর জন্য আরও আন্তরিক চেষ্টা করতে হবে, তা না হলে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলো যে সংকটের মধ্যে রয়েছে তার আরও অবনতি হবে। আমরা আশা করবো, সবার সমন্বিত প্রয়াসে নতুন পাবলিক ইস্যু রুলসের মাধ্যমে আমরা ভালো ফান্ডামেন্টাল কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে আনতে পারবো।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর ড. মো. ইকবাল হোসেইন।
উপস্থাপনায় তিনি নতুন আইনের প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো সকলের সামনে সহজভাবে তুলে ধরেন এবং পূর্বোক্ত আইনের সাথে নতুন আইনের মূল পার্থক্য ও সুবিধাদি তুলে ধরেন।
কর্মশালায় ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট এইচ এ মামুন ও সিনিয়র ম্যানেজার মো. খালেদ হাসান যৌথভাবে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন। তারা তাদের উপস্থাপনায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ফলে কোম্পানিগুলো যে সুবিধাদি অর্জন করবে, সে বিষয়ে এবং তালিকাভুক্তির ব্যাপারে ইস্যু ম্যানেজারদের সার্বিক সহযোগিতার ভূমিকা উল্লেখ করেন।
চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মাহাদি হাসান বলেন, আজকের কর্মশালাটি সকলের জন্য এজন্য প্রয়োজন যে, কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়, সেটি কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়, সেটা জানা থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে মূল্যায়ন করা সহজ হয় ও একই সাথে বিনিয়োগ নিরাপদ হয়।
তিনি আরও বলেন, তালিকাভুক্তির পদ্ধতি সম্পর্কে সম্প্রতি যে পরিবর্তন এসেছে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের একটি হলো কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির অনুমোদন স্টক এক্সচেঞ্জসমূহ দিতে পারবে। সিএসইর তালিকাভুক্তি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োজিত দক্ষ টিম আপনাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ও সেবা দিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলমান থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সকলের মতে, পুঁজিবাজারে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার সঠিক প্রক্রিয়া জানা না থাকলে প্রতিষ্ঠান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, এমনকি তালিকাভুক্তির আবেদনও বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সঠিকভাবে প্রক্রিয়াগুলো জেনে তারপর যদি তালিকাভুক্তির জন্য কোম্পানি নির্বাচন করা যায়, তাহলে প্রক্রিয়াটি যেমন সহজ ও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হবে, একই সাথে পুঁজিবাজার ও সংশ্লিষ্ট সকলে এর সুফল পাবেন।
সকলের উপস্থাপনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।