বিরল বধিরতা চিকিৎসায় প্রথম জিন থেরাপির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের
ঢাকা, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : বংশগত বিরল ধরনের শ্রবণশক্তি হ্রাসের চিকিৎসায় বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো জিন থেরাপি অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এধরণের আরও উদ্ভাবনের পথ খুলে দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে দুই থেকে তিনজন কোনো না কোনো শ্রবণপ্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্ম নেয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শৈশবে শুরু হওয়া এ ধরনের শ্রবণসমস্যার অর্ধেকেরও বেশি জিনগত পরিবর্তনের কারণে ঘটে।
মার্কিন বায়োটেক প্রতিষ্ঠান রিজেনেরন উদ্ভাবিত এই চিকিৎসা পদ্ধতির নাম ওটারমেনি। এটি এমন এক বিরল ধরনের শ্রবণশক্তি হ্রাসের চিকিৎসায় ব্যবহার হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রে বছরে অন্তত ৫০ নবজাতককে আক্রান্ত করে।
নির্দিষ্ট ধরনের ওটিওএফ জিনের পরিবর্তনের কারণে যেসব শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক গুরুতর থেকে সম্পূর্ণ শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন, তাদের জন্য এই চিকিৎসা প্রযোজ্য। এই জিন এমন এক ধরনের প্রোটিন তৈরি করে, যা ভেতরের কান থেকে মস্তিষ্কে শব্দ সংকেত পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাধারণভাবে জিন থেরাপির খরচ অত্যন্ত বেশি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে একেকজন রোগীর চিকিৎসায় কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। তবে রিজেনেরন জানিয়েছে, তারা এই রোগে আক্রান্ত মার্কিন রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
একজন শল্যচিকিৎসক কানে একটিমাত্র ইনজেকশনের মাধ্যমে এই চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকরা এটিকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
চিকিৎসা পাওয়া শিশু ট্রাভিসের মা সিয়েরা স্মিথ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, ‘সে তার নাম জানত না। আমি তাকে কতটা ভালোবাসি, তাও শুনতে পেত না। রিজেনেরন ও তাদের অসাধারণ অস্ত্রোপচারের ফলে সে এখন শ্রবণ ক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। সে গান শুনছে, নাচ ও বাদ্যযন্ত্র উপভোগ করছে।
ওষুধ কোম্পানি ও সরকারের মধ্যে তাদের অন্যান্য চিকিৎসার মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
১০ মাস থেকে ১৬ বছর বয়সী ২০ জন শিশুকে নিয়ে পরিচালিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, কয়েক মাসের মধ্যে অন্তত ৮০ শতাংশ রোগীর শ্রবণশক্তিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর দ্রুত অনুমোদনকে জিনগত শ্রবণশক্তি সমস্যার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা বলে উল্লেখ করেছেন ট্রায়ালে যুক্ত চিকিৎসক এলিয়ট শিয়ারার।
তিনি বলেন, ‘এখন ২৪ ঘণ্টায় স্বাভাবিক শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।’
বোস্টন চিলড্রেনস হাসপাতালের কান-নাক-গলা বিশেষজ্ঞ শেয়ারার বলেন, ‘আমি নিজে দেখেছি, ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী শিশুটি তার মায়ের গলার আওয়াজে সাড়া দিচ্ছে।’