বাসস
  ১৯ মার্চ ২০২৬, ১৮:০০

চট্টগ্রামে ঈদ উপলক্ষে নিরাপত্তার বিশেষ বলয় গড়েছে সিএমপি

ছবি : বাসস

চট্টগ্রাম, ১৯ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ মহাসড়কে নিরাপত্তা ডিউটি কার্যক্রমে বাড়তি নজরদারি চালাচ্ছে। অপরদিকে ঈদের টানা ছুটি শুরু হতেই ফাঁকা বন্দর নগরীতে সম্ভাব্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগরজুড়ে কয়েক স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খাঁন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগের বিভিন্ন মহাসড়ক ও থানা এলাকায় সরেজমিনে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের তদারকি করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় অবস্থান করে ট্রাফিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দিকনির্দেশনা দেন।

পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খাঁন সাংবাদিকদের বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মানুষের ঘরমুখো যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট নিরসন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। সকলকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য অনুরোধ করছি, যাতে সবার ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হয়।’

পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট এলাকার অফিসার ইনচার্জ, সার্কেল অফিসার, হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ মানুষের যাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলে পুলিশ সুপার জানান।

অপরদিকে নগর পুলিশ জানিয়েছে, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ধাপে ধাপে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ চট্টগ্রাম নগর ছেড়ে যাবেন। এতে আবাসিক এলাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিসপাড়া অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঝুঁকি বাড়তে পারে- এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে নগরজুড়ে কয়েক স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে।  

সিএমপি’র সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, বাণিজ্যিক এলাকা ও আবাসিক অঞ্চলে টহল জোরদার করা হয়েছে। ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছেন গোয়েন্দা সদস্যরা।

নগরীর প্রবেশমুখ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। সেখানে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, ঈদের ছুটিতে নগর ফাঁকা হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে বাসা-বাড়ি, দোকানপাট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই প্রতিটি থানাকে নিজ নিজ এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক, এটিএম বুথ, বিপণিবিতানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। আবাসিক ভবন ও হাউজিং এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সিএমপি সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, ‘রমজানের শুরু থেকেই ঈদযাত্রা ও ঈদবাজারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিএমপির সব ইউনিট কাজ করছে। আমাদের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ফোর্স ছুটিতে যাবে, তবে ৭৫ শতাংশ সদস্য দায়িত্বে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও ফাঁকা বাসা-বাড়ি, দোকানপাট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় টহল জোরদার করা হয়েছে। থানা ও ফাঁড়ি পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে। ঈদের দিন এবং ঈদের আগের ও পরের দিন আমাদের সর্বোচ্চ ফোর্স মোতায়েন থাকবে।’

তিনি আরও জানান, নগরবাসীর নিরাপত্তায় পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিএমপির চলমান ‘এস ড্রাইভ’ অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।