শিরোনাম

মো. আসাদুজ্জামান
সাতক্ষীরা, ৮ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : মুসলিম স্থাপত্য শৈলীর এক অনন্য নিদর্শন জেলার কলারোয়া উপজেলার চেঁড়াঘাট ছয় গম্বুজ মসজিদ। পৌনে দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে দমদম এলাকার নৌ-খালের কোলঘেঁষে চেঁড়াঘাট গ্রামের ছায়া-সুনিবিড় পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদটি তার প্রাচীন নির্মাণশৈলী ও ছায়া সুনিবিড় পরিবেশের জন্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এটি এ অঞ্চলের অন্যতম ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘কায়েম বিশ্বাসের মসজিদ’ নামেও পরিচিত।
মসজিদের নামফলকে উল্লেখ রয়েছে, মসজিদটির প্রতিষ্ঠাকাল বাংলা ১২৬৯ সন ও ইংরেজি ১৮৬২ সাল। প্রায় ১৬৪ বছর আগে নির্মিত এ মসজিদটি এ অঞ্চলের মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন বলে জানা গেছে। পাতলা আকৃতির ইট ও চুন-সুরকির গাঁথুনিতে নির্মিত মসজিদটি ১২ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। মসজিদটিতে রয়েছে ৬টি গম্বুজ, ১০টি মিনার, ৭টি দরজা ও ১০টি পিলারের ওপর নির্মিত ছাদ। প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার এই মসজিদে একসাথে শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। ঐতিহাসিক এই মসজিদটি সম্প্রতি কিছুটা বর্ধিত করা হয়েছে। নতুন সিঁড়ি নির্মাণ করে সম্প্রসারিত অংশের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, যা সংরক্ষণেও সহায়ক হবে।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী জানা যায়, মসজিদটির নির্মাতা জনৈক কায়েম বিশ্বাস ছিলেন একজন প্রভাবশালী গাঁতিদার। সে সময় ভারতের মুর্শিদাবাদের জমিদার দুর্গাপদ চৌধুরীর সঙ্গে তার বিরোধের জেরে তাকে প্রাণনাশের হুমকি আসে। পরবর্তীতে কৌশলে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করলে জমিদার শর্ত দেন যে, একটি মসজিদ নির্মাণ করতে হবে। সেই শর্ত পূরণ করতেই কায়েম বিশ্বাস কলকাতা থেকে নির্মাণ শ্রমিক ও উপকরণ এনে তার নিজ গ্রাম কলারোয়া উপজেলার চেঁড়াঘাটে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।
বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. আবু নসর রচিত ‘কলারোয়া উপজেলার ইতিহাস’ গ্রন্থেও এ মসজিদটির নির্মাণ কাহিনি উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগে মসজিদটি সংরক্ষণ করা হোক, যাতে কলারোয়ার এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি রক্ষা করা খুবই জরুরি।
মসজিদ কমিটির সভাপতি খান জাহান আলী ভুট্টোসহ একাধিক মুসল্লিরা জানান, চেঁড়াঘাট ছয় গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি ইবাদতখানা নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের একটি অংশ। আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে যতটুকু সম্ভব সংরক্ষণ ও সংস্কারের চেষ্টা করছি। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি আরো টেকসইভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে তারা জানান।