শিরোনাম

বাগেরহাট, ১৯ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেধাবী তরুণী রাইসা জাহিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিখ্যাত ‘সেন্ট জন’স ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল’-এর মর্যাদাপূর্ণ ‘রেড স্টর্ম স্কলারস প্রোগ্রামে’ ভর্তি হয়েছেন। মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ রাইসা এই তিন বছরের কোর্সের জন্য প্রতি বছর ৩০ হাজার ডলার করে মোট ৯০ হাজার ডলার বৃত্তি পাবেন। তার বাড়ি বাগেরহাট জেলার বেশরগতি গ্রামে।
সেন্ট জন’স ল স্কুলের ভর্তি বিভাগের ডিন ট্রেন্ট অ্যান্ডারসনের পাঠানো একটি চিঠিতে রাইসার মনোনয়নের কারণ হিসেবে তার অসামান্য প্রতিভা ও যোগ্যতার প্রশংসা করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আপনার অসামান্য কৃতিত্বের রেকর্ড, আমাদের লক্ষ্যের প্রতি আপনার অঙ্গীকার এবং আইন পেশায় সফল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনার স্বীকৃতিস্বরূপ আপনাকে এই মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তিটি প্রদান করা হলো।’ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রধানত তার অ্যাকাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং সামগ্রিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে তাকে এই বৃত্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচনা করেছে।
‘রেড স্টর্ম স্কলারস প্রোগ্রাম’ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আইন শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত বিশেষায়িত সুযোগ। এই প্রোগ্রামের অধীনে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ‘এল-স্যাট’ বা ‘জিআরই’ পরীক্ষা না দিয়েই সরাসরি আইন স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেয়া হয়। তবে, শর্ত হিসেবে তাদের স্নাতক পর্যায়ে কমপক্ষে ৩.৭ সিজিপিএ বজায় রাখতে হয়, যা রাইসা সফলভাবে অর্জন করেছেন।
মাত্র ২০ বছর বয়সে রাইসা তার অ্যাকাডেমিক এবং নেতৃত্বগুণের জন্য নিউইয়র্কে পরিচিতি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সিনেটর’ এবং ‘বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর সহ-সভাপতি থাকাকালীন তিনি নিউ ইয়র্কের রাস্তায় জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
রাইসার পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার বেশরগতি গ্রামে। তিনি পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রফিকুল ইসলামের কন্যা। রাইসার সাফল্য তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য আনন্দের উৎস। তার চাচা, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বাবলু তার ভাতিজির বিশ্বজয়ী সাফল্যে গর্ব বোধ করেছেন।
রাইসার প্রতিভার উৎস পারিবারিক অনুপ্রেরণা। তার দাদা, প্রয়াত লতিফর রহমান বাগেরহাট অঞ্চলের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিক্ষার প্রতি নিবেদিতপ্রাণ একজন মানুষ ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্র-ছাত্রী খুঁজতেন এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে শিক্ষার আলো ছড়াতেন। এই মহৎ কাজের জন্য স্থানীয়রা তাকে ‘বাগেরহাটের বাতিঘর’ বলে ডাকতেন।
বর্তমানে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রাইসা আগামী ১১ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে তার নতুন শিক্ষাজীবন শুরু করবেন। ভবিষ্যতে তিনি একজন সফল আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চান।