শিরোনাম

ঢাকা, ১৯ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : রাজধানীর উত্তরার ‘উত্তরা স্কয়ার শপিং কাম কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সে’ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার ১১ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন-মো. মনির আলম (৩২), মো. মজিবর রহমান (২০), মো. হৃদয় (১৯), মো. মঞ্জুরুল (৩২), মো. মহব্বত আলী (১৮), শাহ পরান (১৯), মো. শাকিল (১৯), মো. রশিদুল ইসলাম ওরফে আ. রশিদ (২৭), মো. সাজু (২৪), মো. লিটন (২৪) এবং জিহাদ (১৯)।
দুই দিনের রিমান্ড শেষে আজ বৃহস্পতিবার তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পরের দিন মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নং সেক্টরের সোনারগাঁও জনপদ রোডে অবস্থিত ‘স্কয়ার শপিং কাম কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স’-এর সামনে এক রিকশাচালকের সাথে দায়িত্বরত নিরাপত্তা রক্ষীর বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উক্ত রিকশাচালক ও তার সাথে থাকা আরও ১৫/২০ জন অজ্ঞাতনামা রিকশাচালক মিলে নিরাপত্তা রক্ষী ও শপিং কমপ্লেক্সের লোকজনের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের এলোপাথাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে প্রায় ৬০০/৭০০ জন উত্তেজিত লোক লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে শপিং কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। হামলাকারীরা কমপ্লেক্সের নিচতলা ও দোতলার গ্লাস ভাঙচুর করে। এ সময় সুযোগ বুঝে আসামিরা শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থিত ‘খাজানা ভ্যারাইটিজ স্টোর’ থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল এবং ‘কে জেড ইমিটেশন জুয়েলারি’ দোকান থেকে ৫ লাখ টাকার গয়না লুট করে নিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে, উত্তেজিত জনতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ ঘটনায় সোমবার (১৫ মার্চ) কমপ্লেক্সটির ইলেক্ট্রিশিয়ান আরিফুল ইসলাম বাদি হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।