নির্বাচিত হলে আইন প্রণয়ন ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান মির্জা আব্বাস
ঢাকা, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচনী এলাকার জন্য প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস বলেন, আমি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী না। তাই আমি কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না।
তবে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন কর্মকাণ্ড একটি চলমান প্রক্রিয়া। জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবো। এলাকার মানুষের সার্বিক উন্নয়ন আমার কমিটমেন্ট। নির্বাচনী এলাকা থেকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক দূর করা হবে। তা না হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মঙ্গল বয়ে আনবে না।’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘যে কয়েকবার এমপি, মন্ত্রী হয়েছি, কখনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে হইনি। তারপরও সর্বশক্তি দিয়ে এলাকার উন্নয়ন করেছি। আমি নির্বাচিত হলে নির্বাচনী এলাকাসহ দেশের মানুষ কখনো নিজেকে একা ভাববে না। আমাকে তারা সব সময় পাশে পাবেন।’
নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে প্রার্থী হিসেবে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি আমরা পালন করছি। আচরণবিধি পালন করতে হবে। আর এ বিষয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। যাতে কেউ আচরণবিধি কেউ ভঙ্গ না করে।’
এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, তবে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রচার-প্রচারণার যে সময় দেওয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। কারণ, আগে আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার জন্য তিন মাস সময় পেতাম। এবার মাত্র ২১ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এটা যথেষ্ট সময় নয়। বিশ্বের কোনো দেশে জাতীয় নির্বাচনের জন্য এত অল্প সময় দেওয়ার নজির নেই।
আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশার ব্যাপারে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘জনগণ যাতে যথাযথভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেটাই আমার প্রত্যাশা।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড (মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, শাহজাহানপুর ও রমনা) নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসন।
ঢাকা-৮ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৬৭৫ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক জন। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১০৮টি এবং মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ৫২৭টি।
আসনটিতে মির্জা আব্বাসসহ মোট ১১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) এ এইচ এম রাফিকুজ্জামান আকন্দ, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদের এ. এফ. এম. ইসমাইল চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম সরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেফায়েত উল্লা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ত্রিদ্বীপ কুমার সাহা, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মেঘনা আলম, জনতার দলের মো. গোলাম সারোয়ার, জাতীয় পার্টির মো. জুবের আলম খান ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) মো. রাসেল কবির।