বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান বিসিসিসিআই’র
ঢাকা, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশের টেক্সটাইল, ডাইং ও প্রিন্টিং খাতে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)।
সংগঠনটির নেতারা বলছেন, উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো ও বিদ্যমান শিল্প কারখানাগুলোর আধুনিকায়নে বিদেশি সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে বিসিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে চীন ন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল কাউন্সিল, চায়না ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং অ্যাসোসিয়েশন এবং ডাইং, প্রিন্টিং ও কেমিক্যাল উৎপাদন খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষের নেতৃত্ব দেন বিসিসিসিআই’র সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই খাতগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ, দুই দেশের সহযোগিতার এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
বৈঠকটি টেক্সটাইল, ডাইং ও প্রিন্টিং খাতে জ্ঞান বিনিময় ও ফলপ্রসূ সংলাপের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।
খোরশেদ আলম আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪০টির বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আর্থিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ বাস্তবতায় নতুন কারখানা স্থাপনের পরিবর্তে বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে বিদেশি সহযোগিতা অধিক কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হতে পারে।
তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের যৌথ উদ্যোগ, অংশীদারত্ব ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
বৈঠকে চীনা প্রতিনিধিদলের নেতা লি লিংশেন বলেন, চীন প্রতিবছর প্রায় ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাপড় বাংলাদেশে রপ্তানি করে, যা দুই দেশের শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রতিফলন।
তিনি জানান, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিনিয়োগের সুযোগ সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, শক্তিশালী উৎপাদন সক্ষমতা ও দক্ষ জনশক্তির কারণে, বাংলাদেশ টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য।
ভবিষ্যতেও দ্বিপক্ষীয় শিল্প সহযোগিতা জোরদারে বিসিসিসিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে পোশাক, টেক্সটাইল, ডাইং ও প্রিন্টিং খাতে সহযোগিতা বাড়াতে উভয় পক্ষ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
আলোচনায় যৌথ উদ্যোগ ও কৌশলগত অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠা, দেশীয় ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক খাতকে উচ্চমূল্য সংযোজনমুখী উৎপাদনে যেতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে চীনা প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বিনিয়োগ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে টেকসই শিল্পায়ন ও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে একমত হয় উভয় পক্ষ।
বিসিসিসিআই’র পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেনÑ সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল জামিলুর রহমান, সভাপতির উপদেষ্টা হারুন আর রশিদ ও শহীদ আলম, সহ-সভাপতি খন্দকার আতীকুর রহমান ও মাসুদ আলী খান, পরিচালক (জনসংযোগ) মো. জিন্নাতুল ইসলাম, পরিচালক মোহাম্মদ আমানুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহেরসহ অন্যান্য সদস্যরা।