খুলনায় ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত
খুলনা, ১২ মার্চ ২০২৬ (বাসস): মহানগরীর ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক সভা আজ বেলা ১১টায় নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক প্রেরিত ‘ডিমান্ড ফর জাস্টিস’ শীর্ষক নোটিশের আলোকে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) এ সভার আয়োজন করে।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিবেশবাদী সংগঠন বেলাসহ বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ এ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় জানানো হয়, খুলনায় প্রতি ৫০০ টন বর্জ্যের মধ্যে ১৫ ভাগ প্লাস্টিক বর্জ্য (৭৫ টন) এবং ১০ ভাগ ই-বর্জ্য (১০ টন) বিদ্যমান থাকে। এ হার প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তা ছাড়া ই-বর্জ্যের কারণে মাটি-পানি- বাতাস দূষণের পাশাপাশি কৃষি জমির উৎপাদন ব্যাহত ও মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা সৃষ্টিসহ ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।
সভায় ই-বর্জ্য পৃথক সংরক্ষণের ওপর জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ই- বর্জ্যের ক্ষতিকর দিকগুলি উল্লেখ করে প্রচারপত্র বিলি করা, বিলবোর্ডে প্রদর্শন, কেসিসির পাশাপাশি অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রচারের অনুরোধ জানানো এবং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ওয়ার্ড পর্যায়েও ব্যাপকভাবে প্রচারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে সভায় জানানো হয়। পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক পণ্যের ব্যবহার হ্রাসে, প্রতিটি পণ্য শেষ পর্যন্ত ব্যবহার এবং সলুয়ায় নির্মাণাধীন বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্টে ই-বর্জ্য রিসাইক্লিং-এর ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করা হয়।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা মহানগরীকে একটি ঝুঁকিমুক্ত শহর গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। গ্রিন, ক্লিন এবং হেলদি সিটি বিনির্মাণের প্রথম ধাপই হচ্ছে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা। কাজেই একটি সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ শুরু করতে হবে। বর্জ্য সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরিকল্পনার আওতায় এনে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. মুজিবুর রহমান, চিফ প্লানিং অফিসার আবির উল জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান ও শেখ মো. মাসুদ করিম, কঞ্জারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান ও মো. অহিদুজ্জামান খান, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, ভেটেরিনারী সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস, আইটি ম্যানেজার শেখ হাসান হাসিবুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিনসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।