নৌ-অবরোধ নিয়ে হুমকি বাড়াল ইরান, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে
ঢাকা, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করে, তবে লোহিত সাগরের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। এতে চলমান যুদ্ধবিরতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।
এ সতর্কতা এমন সময়ে এলো, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এ সপ্তাহেই শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে ইরান জানিয়েছে, প্রথম দফার আলোচনা ব্যর্থ হলেও পাকিস্তানের মাধ্যমে উভয় পক্ষ যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
সপ্তাহান্তের আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ছয় সপ্তাহের যুদ্ধের অবসান এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ সমাধানে ইরানকে একটি ‘গ্র্যান্ড বার্গেন’ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে আপাতত উভয় পক্ষই চাপ ধরে রাখার কৌশল নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে তার বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জোরদার করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের বাহিনী সমুদ্রপথে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক বাণিজ্য ‘সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে’।
তবে হরমুজ প্রণালীর সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
তেহরান থেওকে এএফপি জানায়, ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান আলী আবদোল্লাহি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করলে তা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটন নতি স্বীকার না করলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে কোনো রপ্তানি-আমদানি চলতে দেবে না’।
পাকিস্তানের মাধ্যমে যোগাযোগ
ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘আগামী দুই দিনের মধ্যেই’ পাকিস্তানে নতুন দফা আলোচনা হতে পারে।
তিনি ফক্স বিজনেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধ ‘শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি’।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ইসলামাবাদের মাধ্যমে ‘একাধিক বার্তা’ আদান-প্রদান হয়েছে এবং বুধবার পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জ্বালানি বাজারে প্রভাব
সমঝোতার আশায় শেয়ারবাজারে উত্থান এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে রেখেছে, যা এখন মার্কিন অবরোধের কেন্দ্রবিন্দু।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প একদিকে ইরানের আয় বন্ধ করতে, অন্যদিকে দেশটির প্রধান তেল ক্রেতা চীনের ওপর চাপ তৈরি করতে চাইছেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চিঠি লিখে ইরানকে অস্ত্র না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন এবং আশ্বাস পেয়েছেন।
‘গ্র্যান্ড বার্গেন’ ও পারমাণবিক ইস্যু
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, যেকোনো চুক্তিতে ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত থাকতে হবে। যদিও জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা এ দাবির পক্ষে প্রমাণ দেয়নি।
খবরে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে চেয়েছিল, আর ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দেয়—যা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করে।
তেহরান বরাবরই বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক উদ্দেশ্যে। তবে তারা জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ‘অবিসংবাদিত’, যদিও এর মাত্রা আলোচনাযোগ্য।
ভ্যান্স বলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র না রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাকে ‘সমৃদ্ধ হতে সহায়তা করবে’ এটাই ট্রাম্পের ‘গ্র্যান্ড বার্গেন’।
সমান্তরাল কূটনীতি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পাশাপাশি ইসরাইল ও লেবাননও সরাসরি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ‘সব পক্ষ পারস্পরিক সম্মত সময় ও স্থানে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে রাজি হয়েছে।’
তবে পরিস্থিতি এখনো ভঙ্গুর। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইল লেবাননে ২০০টির বেশি হিজবুল্লাহ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, আর হিজবুল্লাহ ইসরাইলে পাল্টা রকেট হামলা চালিয়েছে।