এলপিজি আমদানি সহজ করতে কাজ করছে বিইআরসি : চেয়ারম্যান
ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, চলমান সংকট মোকাবিলায় দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) আমদানি ও সরবরাহ সহজ করতে কাজ করছে বিইআরসি।
তিনি বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আমরা লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নসহ অন্যান্য দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ চলমান রেখেছি।’
আজ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রেগুলেটরি চ্যালেঞ্জস ইন দ্য এলপিজি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জালাল আহমেদ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে চীন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ এলপিজি কিনে নিয়েছে। ফলে, বাংলাদেশের মতো ছোট ক্রেতাদের জন্য সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের এলপিজি আমদানি ও বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতের হাতে রয়েছে। জ্বালানি নিয়ে সাধারণ মানুষের যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে, তা কমাতে কাজ করে যাচ্ছে বিইআরসি।’
মোল্লা আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিন এবং এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) যৌথভাবে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, সম্প্রতি ভূরাজনৈতিক কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়েছে। গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে অনেক জাহাজ ও কোম্পানি কালো তালিকাভুক্তির কারণে সামনে আরো নিষেধাজ্ঞা আসার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘২০২২ সালে বাংলাদেশে ১২ দশমিক ৯ লাখ টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে তা ছিল ১২ দশমিক ৮ লাখ টন এবং ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ১ লাখ টনে। তবে, ২০২৫ সালে আমদানির পরিমাণ কমে ১৪ দশমিক ৬৫ লাখ টনে নেমেছে।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম।
তিনি বলেন, কোম্পানিগুলোকে এখন লাইসেন্স নবায়নেই বছরে ১ কোটি টাকার বেশি খরচ করতে হয়। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ভোক্তাদের ওপর।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান গ্যাস সংকট ও শক্তি রূপান্তরে এলপিজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে পরিচালিত এলপিজি শিল্পে প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে।
তিনি আরো বলেন, বাসাবাড়ি, পরিবহন, শিল্প এবং গ্রামীণ অঞ্চলে এলপিজি ব্যবহার করা হয়। তবে, এটি সম্পূর্ণরূপে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। তাই লজিস্টিক দক্ষতা এবং নিয়ন্ত্রক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, এ পর্যন্ত ৫২টি কোম্পানিকে এলপিজি ব্যবসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টির নিজস্ব প্ল্যান্ট রয়েছে এবং ১৭টি কোম্পানি সরাসরি আমদানির সাথে যুক্ত।
জালাল আহমেদ বলেন, কিছু কোম্পানি শুধু একবার, আবার কিছু কোম্পানি বছরে একবার আমদানি করে। তবে পেট্রম্যাক্স, ওমেরা, মেঘনা, যমুনা ও ইউনাইটেড আইগ্যাসসহ ৭ থেকে ৮টি কোম্পানি প্রতি মাসে নিয়মিত আমদানি করছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান বলেন, এলপিজির মতো নিত্যপণ্যের ওপর কোনো আমদানি শুল্ক থাকা উচিত নয়।
লোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক জানান, মাদার ভেসেল থেকে এলপিজি খালাস করা অত্যন্ত জটিল।
তিনি মহেশখালীতে ২০০ একর জমি বরাদ্দের দাবি জানান, যাতে সব অপারেটর মিলে সহজে পণ্য খালাস করতে পারে। লাইসেন্সসহ অন্যান্য ৫টি সংস্থায় যাওয়ার পরিবর্তে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের দাবি জানান।
মোল্লা আমজাদ হোসেন বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার খরচ কমানো গেলে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১০০ টাকা পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব এ কে এম ফজলুল হক জানান, দেশে প্রায় ৬০ লাখ পরিবার এলপিজি ব্যবহার করে।
অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে জ্বালানি খাতকে আরো আধুনিক ও জনবান্ধব করার চেষ্টা করবে।’