এপস্টিনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি মেলানিয়া ট্রাম্পের
ঢাকা, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক আকস্মিক বক্তব্যে দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা বা তার নির্যাতনের বিষয়ে কোনো কিছু জানা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, ৫৫ বছর বয়সী এই সাবেক মডেল হোয়াইট হাউসে ক্যামেরার সামনে দেওয়া বিরল এই বক্তব্যে বলেন, এটি এমন এক কেলেঙ্কারি যা দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে অপমানজনক ব্যক্তি জেফ্রি এপস্টিনকে জড়িয়ে যে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে, তা আজই বন্ধ হওয়া উচিত। যারা এসব মিথ্যা বলছে, তাদের নৈতিকতা, বিনয় ও সম্মানবোধের ঘাটতি রয়েছে।’
কেেেনা তিনি এই বক্তব্য দিলেন, তা স্পষ্ট নয় এবং তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
মেলানিয়া ও ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে এপস্টিনের সঙ্গে একাধিক ছবিতে দেখা গেলেও তিনি দাবি করেন, এপস্টিনের সঙ্গে পরিচয়ের দুই বছর আগেই তিনি তার স্বামীর সঙ্গে পরিচিত হন।
তিনি বলেন, ‘আমি এপস্টিনের শিকার নই। এপস্টিন আমাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়নি।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভুয়া ছবি ও বিবৃতি’ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে এসব ছড়ানো হচ্ছে। কী বিশ্বাস করছেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন—এসব ছবি ও গল্প সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
ফার্স্ট লেডি কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান, এপস্টিনের নির্যাতনের শিকারদের জন্য প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন করতে, যাতে তারা শপথের আওতায় সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ পান।
তবে এপস্টিনের অভিযোগকারীদের কিছু পরিবার তার এই বক্তব্যকে ‘দায় এড়ানোর চেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। প্রধান অভিযোগকারী ভার্জিনিয়া জিউফ্রের ভাইসহ কয়েকজন এ বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
অন্যদিকে, এপস্টিনের দুই অভিযোগকারী বোন মারিয়া ফার্মার ও অ্যানি ফার্মার পৃথক বিবৃতিতে বলেন, তারা জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার চান। তারা বিচার বিভাগে থাকা বাকি নথিপত্র প্রকাশের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এপস্টিন ২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে বিচারাধীন অবস্থায় ফেডারেল হেফাজতে মারা যান। তবে এই কেলেঙ্কারি বারবার ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্সিকে প্রভাবিত করেছে।
মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কখনোই এপস্টিনের নির্যাতন সম্পর্কে কিছু জানতাম না। আমি কোনোভাবেই জড়িত ছিলাম না। আমি কখনো তার বিমানে উঠিনি বা তার ব্যক্তিগত দ্বীপে যাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এপস্টিনের যৌন পাচার, অপ্রাপ্তবয়স্কদের নির্যাতন বা অন্য কোনো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে আমাকে কখনো আইনি অভিযোগে অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।’
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান সুহাস সুব্রামানিয়াম মেলানিয়া ট্রাম্পকে শপথের আওতায় সাক্ষ্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
সামাজিক মাধ্যমে নানা জল্পনা চলছে কেন ফার্স্ট লেডি আবার এই ইস্যুটি সামনে আনলেন, বিশেষ করে যখন সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি কিছুটা শান্ত ছিল।
প্রসঙ্গত, দুই দিন আগে তার স্বামী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, যা নিয়েও সমালোচনা চলছে।
মেলানিয়া ট্রাম্প সাধারণত হোয়াইট হাউসে এক রহস্যময় ও স্বল্পভাষী উপস্থিতি হিসেবে পরিচিত, এবং এ ধরনের প্রকাশ্য বক্তব্য খুব কমই দেন।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, এই বক্তব্য দেওয়ার আগে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানতেন না।