শিরোনাম

ঢাকা, ১৬ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে ‘মায়ের ডাক’ সংগঠন। আজ মিরপুরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোট ৫৫টি পরিবারের সদস্যদের হাতে এই উপহার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর, ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সানজিদা ইসলাম তুলি।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো শুধু আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি মানবিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের চারজন জনপ্রতিনিধি-শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, এস এম জাহাঙ্গীর, সানজিদা ইসলাম তুলি এবং তিনি নিজে-সবসময় এসব পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। এবার সম্মিলিতভাবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের সঙ্গে সময় কাটানো যায় এবং ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে সামান্য উপহার পৌঁছে দেওয়া যায়।
তিনি শহীদ ও গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ সব পরিবারের দুঃখ-দুর্দশার বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিগত ১৭ বছরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবার এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের পুনর্বাসনে সরকার ইতোমধ্যে বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইমাম-খতিবদের ভাতা বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সংক্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শহীদ ও গুম হওয়া পরিবারের সন্তানদের স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে গুম ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে অন্যান্য মন্ত্রণালয়েও চাকরির ক্ষেত্রে এসব পরিবারের সদস্যদের জন্য জোরালো সুপারিশ করা হবে বলে উল্লেখ করেন।
আমিনুল হক বলেন, ‘আপনারা নিজেদের কখনো একা ভাববেন না। আমরা আপনাদের পরিবারের সদস্য হিসেবেই পাশে থাকতে চাই। বর্তমান সরকার আপনাদের কল্যাণে কাজ করছে এবং শিগগিরই আপনাদের জন্য নেওয়া স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দও শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।