বাসস
  ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৭:১১

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

ফাইল ছবি

ঢাকা, ১৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থা পুনর্বহাল করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে মোট ৭৪ পৃষ্ঠার এই পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। 

বহুল আলোচিত এই রায়ে বলা হয়েছে, আগামী (চতুর্দশ) জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়কে বাতিল ঘোষণা করে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে রায় দেন। 

আপিল বেঞ্চের অপর ছয় বিচারপতি ছিলেন— মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

বহুল আলোচিত এই আপিলে বিএনপি’র পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। 

জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে আপিল শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইয়া আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন  অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় ১৯৯৬ সালে। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে, অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিন জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। 

২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে করা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। এরপর ২০১১ সালের ৩ জুলাই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। 

তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক ও এক ব্যক্তি আবেদন করেন। 

সে রিভিউ আবেদন থেকে আপিল শুনানির জন্য ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট লিভ মঞ্জুর করে ২১ অক্টোবর আপিল শুনানির দিন ধার্য করেন। 

পরবর্তীতে ১০ দিন এই আপিলের শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।