শিরোনাম

রাজশাহী, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব ড. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া বলেছেন, শিশুশ্রম শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তিনি এটিকে শুধু আইনি সমস্যা নয়, বরং একটি গুরুতর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ড. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া বলেন, শিশুশ্রম শিশুর শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে বঞ্চিত করে, তাদের শারীরিক, মানসিক ও মানবিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে ‘শিশুশ্রম নির্মূল’ শীর্ষক বিভাগীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ) শহরের জাতীয় পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
শ্রম সচিব বলেন, সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে সব ধরনের শিশুশ্রম নির্মূল করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরো বলেন, সরকারের দায়িত্ব শুধু আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিশুদের শিক্ষা, সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব।
সরকারি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে ড. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া বলেন, জাতীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদ গঠন করা হয়েছে এবং বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত সভা ও কর্মশালা আয়োজনে প্রতি বছর বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তিনি জানান, শিশুশ্রমের তালিকা হালনাগাদ করার পর ৪৩ ধরনের কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শিশুশ্রমমুক্ত শিল্প খাত ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্যানারি, সিল্ক, সিরামিক, কাচ, রপ্তানিমুখী চামড়াজাত পণ্য ও জুতা, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ, তৈরি পোশাক ও চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
ড. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া বলেন, ডিআইএফই (কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর) নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিআইএফই-এর তত্ত্বাবধানে ৩ হাজার ৪৫৩ জন শিশুকে শ্রম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সরকার-অর্থায়িত ‘ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন (চতুর্থ পর্যায়)’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১ লাখেরও বেশি শিশুকে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে প্রায় ৯০ হাজার শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম থেকে মুক্ত করা হয়েছে।
সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে যৌথভাবে সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
কর্মশালায় রাজশাহী বিভাগের কমিশনার ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ওমর মো. ইমরুল মহসিন, পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম এবং ইউসেপ বাংলাদেশের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শাহিনুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক জুলিয়া জেসমিন এবং আইএলও’র জাতীয় পরামর্শক হালিমা আক্তার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।