বাসস
  ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৭

ভোটের টানে নিজ এলাকায় ফিরছে মানুষ

ছবি : বাসস

সেলিনা সুলতানা

ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশের মানুষ বহু বছর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তাদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ- উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ভোট নিয়ে জনগণ প্রকাশ করছে আনন্দ আর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। এ আনন্দে যুক্ত হয়েছে সরকারি ছুটি। 

ঢাকার সড়ক, জনপথ এবং মেট্রোস্টেশনে গত কয়েকদিন ধরে ছিল উপচেপড়া ভিড়। নানা বয়সী মানুষের এ ধরনের বাড়িমুখী হওয়ার দৃশ্য ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে দেখা যায়। 

গতকালের মতো আজও রেলস্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে বাসস্ট্যান্ডে। যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও নেই তাদের মাঝে কোনো বিরক্তির ছাপ। ভোটারদের এই আনন্দ উচ্ছ্বাসকে পুঁজি করে কোথাও কোথাও বাসভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে সুযোগসন্ধানীরা। 

পাশাপাশি সিএনজি ও রিকশা ভাড়া বৃদ্ধির দৃশ্যও দেখা গেছে। এসব অসংগতি আটকাতে পারেনি ঘরমুখী মানুষদের।

গত দু’দিনের চেয়ে আজ ঢাকার বিভিন্ন স্থানের চিত্র ছিল ভিন্নরকম। সড়কগুলো তুলনামূলক বেশ ফাঁকা, যানজট ও ট্রাফিক সিগন্যালও দেখা যায়নি। অটোরিকশা ও প্যাডেলচালিত  রিকশার চলাচল কম রয়েছে। 

তারাও ভাড়া হাঁকছে অন্যদিনের চেয়ে বেশি। এছাড়া প্রাইভেট কার বা উবারের চলাচল বা মোটরবাইক চলাচল খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। গতকাল যারা গন্তব্যে যেতে পারেনি, আজ তারা যাত্রা করেছে।

কমলাপুর রেল স্টেশনে দেখা মিলল প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাওয়া সিলেটের যাত্রী সাফিনুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য ইতোমধ্যে অনেক ভোটারই গ্রামে চলে গেছেন। 

ভোরবেলা রেলস্টেশনে এসে দেখেন স্টেশনে প্রচণ্ড ভিড়, অনেক যাত্রী তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ট্রেনের অপেক্ষা করছেন। টিকিট না পেয়ে ট্রেন প্ল্যাটফর্মে পৌঁছাতেই হুড়মুড়িয়ে যাত্রীরা ট্রেনে উঠে যাচ্ছে। 

প্রথমবারের মতো ভোটার হয়েছেন তিনি। ভোটের মাঠে সিল দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন ভাবতে পেরে সাফিন আনন্দিত। কিন্তু পাশাপাশি রয়েছে তার উৎকণ্ঠাও।

তিনি বলেন, এর আগে দেশে ভোটের পরিবেশ ছিল না। এবার কী হবে তা নিয়ে তিনি চিন্তিত। তারপরও প্রথম ভোটটা নিজ এলাকায় দিতে চান বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গৃহকর্মে দুই দিনের ছুটি নিয়ে ময়মনসিংহ যাচ্ছেন জারমিন বেগম। তিনি বলেন, পাঁচটা বাড়িতে গৃহকর্মের কাজ করি। ঢাকায় যেসব আত্মীয় ও প্রতিবেশি আছে, সবাই মিলে একটি বাস ভাড়া করে ভোট দিতে গ্রামে যাচ্ছি।

ঢাকা রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. মহব্বতজান চৌধুরী বাসস-কে বলেন, গতকাল রেলস্টেশনে ভিড় ছিল। চিত্রা ট্রেনে কিছু ভিড় ছিল। এছাড়া সময়সূচি অনুযায়ী রেল চলাচল স্বাভাবিক ছিল। 

ভোটের জন্য ঢাকা শহর ছাড়ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

তিনি বলেন, ছুটির দিনগুলোতে যে ধরনের যাত্রীসেবা দিয়ে থাকে রেল কর্তৃপক্ষ, তেমন চিত্রই দেখা গেছে। 

আজ বুধবার সকাল থেকে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া দেখা গেলেও সময়ের সাথে সাথে ভিড় কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বিকেলের দিকে এটা স্বাভাবিক হবে। সিলেট, আখাউড়া স্টেশন, জয়দেবপুর, গাজীপুরসহ কয়েকটি স্টেশনে যোগাযোগ করে সেসব স্টেশনের চিত্র জানতে চেয়েছিলাম। সেসব স্টেশনের অবস্থা স্বাভাবিক।

গাজীপুরের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসি চেয়ার টিকিট কেটে আসনে বসলেও ঘাড়ের উপর চাপ বাড়ছে। জানতে পারলাম, নির্ধারিত টিকিট বিক্রির পরও স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। গন্তব্যে যাওয়ার জন্য যারা টিকিট পাননি, তারা ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি করে উঠে দাঁড়িয়েছেন। সবাই কষ্ট করে ভোট দিতে যাচ্ছেন।