লালমনিরহাটে চলছে ভোটের আনন্দ, রয়েছে অজস্র প্রত্যাশা
বিপুল ইসলাম
লালমনিরহাট, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): নতুন বছরের দ্বিতীয় মাসে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে লালমনিরহাটে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ ও প্রত্যাশা বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার মানুষ ভোটকে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি ও নাগরিক অধিকার হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। পূর্বে যারা ভোট দিতে পারেননি, তাদের মধ্যেও এবার অংশগ্রহণের আগ্রহ লক্ষণীয়।
জেলাজুড়ে নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে এবং প্রার্থিতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষ সরাসরি আলোচনা করছেন।
ভোটাররা সৎ, যোগ্য ও জবাবদিহিমূলক সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি নাগরিক নিরাপত্তা, টেকসই কর্মসংস্থান ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আশা করছেন। তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে তিস্তার ন্যায্য পানির হিস্যা, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, স্থলবন্দর আধুনিকীকরণ, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, মাদকমুক্ত সমাজ, নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিমানবন্দর সংস্কার, শিল্পায়ন, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন।
জেলা সদর পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের স্কুল শিক্ষক বাবলু মাস্টার বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।
বড়বাড়ী বাজারের রাস্তার পাশে প্রতিদিনই বাদাম বিক্রি করেন আইয়ুব আলী ও নাজমুল হক। তারা জানান, ভয়ভীতি ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়াই আমাদের প্রধান চাওয়া। তবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
আদিতমারী উপজেলার নারী ভোটার টুম্পা আক্তার বলেন, ভোট নাগরিকের অধিকার—সবাই মিলে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব।
হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের কৃষক হযরত আলী আশা প্রকাশ করেন, যে সরকারই গঠিত হোক, এলাকার বাস্তব উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হোক।
পাটগ্রামের বাউরা ইউনিয়নের তরুণ ভোটার রিয়াজ হোসেন বলেন, প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি এমন প্রার্থী চাই, যিনি নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।
প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ভোটারদের অধিকার রক্ষা বিষয়ে বক্তব্য এসেছে। লালমনিরহাটের তিন আসনে মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), ইসলামিক আন্দোলন বাংলাদেশ, জনতার দল, স্বতন্ত্র প্রার্থী, আমার বাংলাদেশ পার্টি এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থীরাও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
লালমনিরহাট-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান বলেন, নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সকলকে আহবান জানাচ্ছি।
লালমনিরহাট-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু বলেন, প্রত্যেক ভোটার যেন নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, আমরা সব সময় তাদের পাশে আছি।
একই আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. রোকন উদ্দীন বাবুল বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা সব সময় কাজ করছি।
লালমনিরহাট-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু তাহের চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত, ন্যায় এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করেছেন। গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী দীপক ভোটারদের কাছে টেকসই কর্মসংস্থান, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের অঙ্গীকার করেছেন।
৩-আসনের বিএনপির প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, জনগণের সকল প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করবো। সব রাজনৈতিক দল ভোটকে উৎসব হিসেবে উদযাপন করবে এবং জনগণের অধিকার রক্ষা নিশ্চিত করবে।
জেলা নির্বাচ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, সকল ভোটকেন্দ্র নিরাপদ ও সুষ্ঠু রাখার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জনগণ ভয়মুক্তভাবে ভোট দিতে পারবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, ভোট কেন্দ্র দখল, জালভোট বা ভোটারদের ওপর ভয়ভীতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। অনিয়ম প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, লালমনিরহাট জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭ জন, নারী ভোটার ৫ লাখ ৭০ হাজার ৪২২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭ জন।