পুঁজিবাজারে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
ঢাকা, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): পুঁজিবাজারের গভীরতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে লাভজনক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান (এসওই) ও সরকারি অংশীদারিত্ব থাকা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর (এমএনসি) শেয়ার পুঁজিবাজারে আনার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে সরকার।
একাধিক লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে আনা হবে। অন্যদিকে, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত তাদের নিজ নিজ বোর্ড সভায় নেওয়া হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ে বুধবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। প্রাথমিকভাবে ১০টি কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর চেয়ারম্যান ড. আবু আহমেদ।
বৈঠকে ১০টি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাণিজ্য উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা, শিল্প উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (অর্থ মন্ত্রণালয়) উপস্থিত ছিলেন। আইসিবি এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর দুই চেয়ারম্যানও বৈঠকে অংশ নেন।
তালিকায় থাকা ১০টি কোম্পানি হল: কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড, ওয়েস্ট জোন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, সিনজেন্টা বাংলাদেশ লিমিটেড, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, সিনোভিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড, নোভার্টিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড এবং নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, শেয়ারবাজার এখন অনেকটাই নিয়ম-নীতির কাঠামোতে ফিরে এসেছে। তাই এখন বাজারের গভীরতা বাড়ানো ও আস্থা পুনরুদ্ধারে মনোযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমরা শক্তিশালী, মৌলিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বহুজাতিক কোম্পানির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের কিছু কোম্পানিতে শেয়ার থাকলেও সেগুলো তালিকাভুক্ত নয়। প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। কোম্পানিগুলো জানিয়েছে যে সিদ্ধান্ত তাদের বোর্ড সভায় নেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
সময়সীমার বিষয়ে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, তিনি কোম্পানিগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তালিকাভুক্তি জটিল একটি প্রক্রিয়া এবং কোম্পানি আইন অনুসরণ করতে হবে।
আগের বৈঠকগুলো ফলপ্রসূ না হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগের জবাবে তিনি বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে শেয়ার ছাড়ার আগ্রহ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে।
আইসিবি চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ জনস্বার্থে নেওয়া। ‘জনস্বার্থের চেয়ে বড় কোনো স্বার্থ নেই। তিনি ভারত, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে ইউনিলিভারসহ অন্যান্য বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তির উদাহরণ টেনে প্রশ্ন তোলেন, নেসলে যদি বোম্বে (মুম্বাই) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে, তবে বাংলাদেশে সমস্যা কোথায়?’
তিনি আরও বলেন, তালিকাভুক্তিতে উৎসাহ দিতে কর ছাড়সহ বিভিন্ন প্রণোদনা বিবেচনা করা যেতে পারে। তারা যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে কর বাড়াতে হতে পারে। অন্যথায় বহুবছর অপেক্ষা করতে হবে বলেও সতর্ক করেন।
বৈঠকে কোম্পানিগুলো সম্মতি দিয়েছে কি না-জানতে চাইলে আবু আহমেদ বলেন, জনসাধারণের প্রত্যাশা এবং পুঁজিবাজারে তাদের তালিকাভুক্তির প্রবল চাহিদার বিষয়টি তাদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে, তবে প্রায়ই বিলম্ব ঘটে। সরাসরি তালিকাভুক্তিতে বিলম্বের কোনো কারণ দেখি না।
আইসিবি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ইউনিলিভার বাংলাদেশে সরকারের প্রায় ৪০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। আমরা তো পাঁচ শতাংশও বিক্রি করতে বলছি না। সরকার কি নিজের শেয়ার বিক্রি করতে পারে না? তারা বলছে বিদেশ থেকে বোডের্র অনুমোদন লাগবে।