ডিএসই’র সঙ্গে চীনা কোম্পানিগুলোর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান
ঢাকা, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশে কার্যরত চীনা কোম্পানিগুলোর শীর্ষ সংগঠন চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (সিইএবি)-এর ১৯ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্মকর্তাদের সাথে এক বৈঠকে বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মা বেন।
ডিএসই’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বৈঠকে সিইএবির অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে-চায়না বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, হুয়াওয়ে, চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেংফেই’স সাপ্লাই চেইন, জিংসু কনস্ট্রাকশন, হুনান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট, চেন হুইমিন, হুইসি দ্য অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ল’ ফার্ম, চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো, বাংলাদেশ সিনো-সোর্স কনস্ট্রাকশন, সিকেডি লেজার, ডংজিং গ্রুপ, কোকো ফ্যাশন, জিয়াংসু গুয়োতাই হুয়াশেং, শিন গাও টেক্সটাইল, জিংতাই রোড অ্যান্ড ব্রিজ কোম্পানি, বিওএফ, ভিভো এবং শেনজেন কিংডমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও কার্যকর রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে কৌশল প্রণয়ন চলছে এবং চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে যৌথ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করতে সিইএবি-এর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার হবে এবং আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে ডিএসই’র পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়। এছাড়া আগ্রহী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করে তাদের বিনিয়োগ ও তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
সিইএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট মা বেন বলেন, এই বৈঠক পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে চীনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা আরও গভীর হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ২৫০-এর বেশি, যারা বাণিজ্য, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে সক্রিয়।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, টানেল, সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে, পয়ঃশোধনাগার ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে চীনা কোম্পানিগুলোর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে সিইএবি বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করবে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে ডিএসই’র পক্ষ থেকে প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুর রহমান, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মো. আসিফুর রহমান, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. আদিব হোসেন খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দল ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হল ও ট্রেনিং একাডেমি পরিদর্শন করেন।