চট্টগ্রাম বন্দরের ১৫ কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তে চিঠি
চট্টগ্রাম, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান আন্দোলনের আড়ালে নৈরাজ্য সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ কর্মচারীকে শাস্তিমূলক বদলি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে তদন্ত চলমান থাকায় তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বন্দরের চিফ পারসোনাল অফিসার নাসির উদ্দিন চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হাসিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ৫০ ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে অভিযুক্ত ১৫ কর্মচারীকে বদলিপূর্বক মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বদলি কর্মচারীদের মধ্যে অডিট সহকারী, ইঞ্জিন ড্রাইভার, স্টেনো টাইপিস্ট, উচ্চ বহিঃসহকারী, ইসিএম ড্রাইভার ও মেসনসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পদের কর্মচারী রয়েছেন।
আদেশে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযুক্ত কর্মচারীরা আন্দোলনের নামে বন্দর এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তরা যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শুধু বদলিই নয়, অভিযুক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অফিস আদেশে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এসব কর্মচারীর নামে থাকা সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিঠিতে যে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকন। আন্দোলনের সময় তাদের প্রেষণে যথাক্রমে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়। তালিকায় থাকা অন্যেরা হলেন— মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, মো. হুমায়ুন কবীর (এসএস পেইন্টার), মো. শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী।
এ বিষয়ে জারি করা আদেশের অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।