পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানিগুলোকে সুশাসন কাঠামোর আওতায় আনার কাজ চলছে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ঢাকা, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেছেন, পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানিগুলোকে সুশাসন কাঠামোর আওতায় আনার কাজ চলছে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সব নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ভিত্তিতে উন্নত করা যায়।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ বিএসইসির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে কমিশন সচেষ্ট রয়েছে। এজন্য তিনি পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর উদ্যোগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিএসইসি’র মাল্টিপারপাস হলে ‘আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার, ঋণ পরিশোধ অথবা ইস্যুয়ার কোম্পানির বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনা সভা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) থেকে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার, ঋণ পরিশোধ ও বিনিয়োগ নীতিমালা এবং পুঁজিবাজারের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় কমিশনের কমিশনারবৃন্দসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান নতুন পাবলিক ইস্যু রুলস অনুযায়ী আইপিও আবেদন, তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া এবং আইপিও তহবিল ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
সভায় অংশীজনরা বলেন, বৈশ্বিক বাস্তবতার আলোকে আইপিও তহবিল ব্যবহারে আরও নমনীয়তা প্রয়োজন।
তারা আইপিও তহবিলের ব্যবহার, বিশেষ করে ঋণ পরিশোধ ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা, এর বাস্তব প্রয়োগ এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া স্বল্পমেয়াদি আমানতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বাড়ানো প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তারা।
অংশীজনরা আইপিও তহবিল থেকে ঋণ পরিশোধে আরও নমনীয় নীতি গ্রহণের প্রস্তাব দেন। একইসঙ্গে পুনঃতফসিলকৃত এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও এ তহবিল ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণের দাবি জানান।
অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইপিও তহবিল ব্যবহার করে ঋণ পরিশোধে তুলনামূলক কম বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই বৈশ্বিক মানদণ্ড বিবেচনায় এ ক্ষেত্রে সুযোগ সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বলেন, আইপিও তহবিল সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না এবং তা প্রকল্পের জন্য সত্যিকার অর্থে লাভজনক কি নাÑ তা গভীরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তিনি উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে শুধু সুনামের ভিত্তিতে তহবিল ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে টিকে থাকতে শক্তিশালী পুঁজিবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বলেন, উৎপাদন বা সম্প্রসারণমূলক ঋণ আইপিও তহবিল দিয়ে পরিশোধের মাধ্যমে আর্থিক পুনর্গঠন (ক্যাপিটাল রিস্ট্রাকচারিং) করার সুযোগ থাকা উচিত। তবে এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত ও নিরীক্ষিত ব্যবস্থা বজায় রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি)-এর প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ বলেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে ভালো কোম্পানিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাই কঠোর নীতির পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নমনীয়তা প্রয়োজন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই)-এর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, কোম্পানির জন্য উপকারী হলে আইপিও তহবিল দিয়ে ঋণ পরিশোধের সুযোগ থাকা উচিত, তবে তা যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) প্রেসিডেন্ট কামরান তানভিরুর রহমান বলেন, দেশে স্বল্পমেয়াদি আমানত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করা হচ্ছে, যা টেকসই নয়। তাই পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বাড়াতে নীতিগত সমন্বয় জরুরি।
সভায় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ), বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) এবং অন্যান্য পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারাও অংশ নেন।