ইইউ বাজারে পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধিতে জাতীয় ট্রেসেবিলিটি উন্নয়ন বিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত
ঢাকা, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ (বাসস) : জার্মানির উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড-এর সহায়তায় ‘এসটিআইএলই-দ্বিতীয়’ প্রকল্পের অধীনে পণ্যের ট্রেসেবিলিটি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের নীতিগত আলোচনার আয়োজন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ আলোচনাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজারের পরিবর্তনশীল বিধিনিষেধ এবং এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখার জরুরি পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।
এতে বলা হয়, উন্নত ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা রপ্তানির বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে, সার্কুলারিটি প্রচার করতে এবং বৈশ্বিক বাজারে উদীয়মান টেকসই উন্নয়ন ও যথাযথ সতর্কতার শর্ত পূরণ নিশ্চিত করতে পারে।
বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) আলোচনার জন্য বিষয়ভিত্তিক ও গবেষণা সহায়তা প্রদান করে। বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম জোর দিয়ে বলেন, পণ্যের ট্রেসেবিলিটি শক্তিশালী করা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা থেকে এ প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এটি ইইউ কর্তৃক প্রবর্তিত সার্কুলার ইকোনমি, ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্টস (ডিপিপি), দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ এবং টেকসই উন্নয়ন ডিসকোর্সের সাথে সম্পর্কিত।
যেহেতু বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে কেন্দ্রীভূত, তাই বাংলাদেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে ইইউ গ্রিন ডিলের শর্তাবলীর সঙ্গে তার নীতিমালা সামঞ্জস্য করতে হবে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান একটি ‘জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কৌশল’ প্রণয়নের কথা জানান। এ কৌশলে খাতভিত্তিক ট্রেসেবিলিটি পাইলট প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নেতৃত্ব দেবে এবং জিআইজেড প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে।
মূল প্রবন্ধে বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক প্রতিপালন ব্যয়, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, আন্তঃকার্যক্ষমতা এবং তথ্য যাচাই।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতার আলোকে বিল্ড উল্লেখ করে, ভিয়েতনাম, চীন, জাপান, কোরিয়া এবং ভারতে শক্তিশালী ট্রেসেবিলিটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বিল্ড জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কৌশলকে খাতভিত্তিক পদক্ষেপ দিয়ে সমর্থন করার সুপারিশ করে। যেমন- শিল্প বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য সবুজ অর্থায়ন বিকল্প চালু, তথ্য অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং ঝুট খাতের একটি ডিরেক্টরি তৈরি করা।
মাহবুবুর রহমান তথ্য বিনিময়ের জন্য একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি জার্মানিকে এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ উদ্যোগের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা চান।
বর্তমানে আরএমজি উদ্যোক্তারা বিভিন্ন ক্রেতা, ব্র্যান্ড এবং কনসালট্যান্টের কাছ থেকে তথ্য চাহিদা পূরণে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, যাদের প্ল্যাটফর্মে বৈশ্বিক বা অভিন্ন মান নেই।
বিজিএমইএ পরিচালক শেখ এইচ এম মোস্তাফিজ উল্লেখ করেন, একটি অভিন্ন জাতীয় মান বা নির্দেশিকা প্রতিপালন প্রক্রিয়াকে উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ করবে এবং ব্যয় কমাবে।
ঢাকায় জার্মান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি জান্নিস হোসেন দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ তুলে ধওে বলেন, তথ্যের প্রাপ্যতা ও উৎপাদন এবং সরবরাহকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ব্যয়।
বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং চামড়া খাতের প্রতিনিধিরা চলমান খাতভিত্তিক পাইলট প্রকল্পের আপডেট শেয়ার করেন। তারা জানান, অগ্রগতি হলেও এসব পাইলট প্রকল্পকে সম্প্রসারণ করতে হবে যাতে আরএমজি-এর সাবকন্ট্রাক্টিং ইউনিটের মতো নিম্ন ও মধ্যম স্তরের প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত এবং পূর্ণাঙ্গ ট্রেসেবিলিটি তথ্যের চাহিদা পূরণ হয়।
নীতিগত আলোচনাকে এগিয়ে নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি নতুন বহুপক্ষীয় সংলাপ প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করেছে। এটি মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি উইংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে এবং এতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সদস্যরা অংশ নেবেন।
রপ্তানি উইংয়ের প্রধান আব্দুর রহিম খান থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার উদাহরণ টেনে একটি জাতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট (পিআইইউ) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন।
পরিকল্পনা উইংয়ের যুগ্ম সচিব মোস্তফা জামাল হায়দারও উল্লেখ করেন, উন্নত ট্রেসেবিলিটি বাংলাদেশকে এলডিসিুউত্তর পরিস্থিতিতে আরও ভালোভাবে সহায়তা করতে পারে।
অনুষ্ঠানে সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, শিল্প নেতৃবৃন্দ এবং টেক্সটাইল, পোশাক, চামড়া ও মৎস্য খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।