বাসস
  ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৫

ছিনতাইয়ের ঘটনায় হত্যাকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলে প্রচার শনাক্ত : বাংলাফ্যাক্ট

ছবি : বাংলাফ্যাক্ট

ঢাকা, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনাকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলে প্রচার শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।

বাংলাফ্যাক্ট জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনাকে ভারতীয় মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলে প্রচার শনাক্ত করা হয়েছে।

বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, মামলার এজহার এবং নিহতের বাবার বর্ণনা, পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী স্পষ্ট হয় যে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই খোকন চন্দ্র দাসের ওপর হামলা চালানো হয়। 

পরে খোকন হামলাকারীদের চিনে ফেলায়, তার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। 

অর্থাৎ, ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, বরং অপরাধমূলক ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ড।

বাংলাফ্যাক্ট জানায়, নিহতের বাবার বরাতে ও মামলার এজাহার সূত্রে হত্যাকাণ্ডের এই কারণ জানা গেছে।

মৃত্যুর আগে খোকন চন্দ্র দাস নিজেও হামলাকারীদের নাম বলে যান।

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। 

পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তিনি মারা যান। 

ভারতের একাধিক মিডিয়ায় এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। 

দ্যা হিন্দু, এনডিটিভি,  ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া, টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া ইত্যাদি মিডিয়ায় এই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার যোগসূত্র টানা হয়।

বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, কালের কণ্ঠের ডামুড্যা প্রতিনিধি মাহাদি হাসান বাংলাফ্যাক্টকে বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা। ভিক্টিমের পরিবারও এটিকে ছিনতাইয়ের ঘটনা বলেছে।’

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, গত বছর থেকে ভারতীয় গণমাধ্যম, ভারত থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং দেশের কিছু ফেসবুক পেইজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা রকম ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। 

বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকাল সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল ও সংগঠনকে লক্ষ্য করে এ সব অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্ট। বাংলাদেশে চলমান গুজব, ভুয়া খবর ও অপতথ্য প্রতিরোধ করে জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ায় দায়িত্ব পালন করছে বাংলাফ্যাক্ট।