শিরোনাম

ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নির্বাচনী শুদ্ধতা’ ও ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেমিনারে বক্তারা প্রথাগত কারচুপির চেয়েও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভোটারদের মনস্তত্ত্ব পরিবর্তনের ‘লিগ্যাল ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের (এএসআরসি) সেমিনার কক্ষে পলিটিক্যাল অ্যান্ড পলিসি সায়েন্স রিসার্চ ফাউন্ডেশন (পিপিএসআরএফ) এই সেমিনারের আয়োজন করে।
‘ইলেক্ট্ররাল ইন্টিগ্রিটি: ফ্রম ক্যাম্পেইনিং টু ভোট কাউন্টিং অ্যান্ড দ্য রেজাল্ট ডিক্লেয়ারেশন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে কৌশলগত পার্টনার হিসেবে ছিল ইউনেস্কো, বাংলাদেশ পলিটিকাল সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ কাউন্সিল।
সেমিনারে মূল ঘোষণাপত্র পাঠ করেন পিপিএসআরএফ-এর চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী সততাই হলো গণতান্ত্রিক বৈধতার মূল ভিত্তি। ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কেবল ভোটের দিনের বিষয় নয়; বরং এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।’
অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ‘লিগ্যাল ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামক ধারণা ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়া, হোয়াটসঅ্যাপ ও অ্যালগরিদমিক টুল ব্যবহার করে ভোটারদের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার প্রবণতা দেখা যেতে পারে। এটি সরাসরি বেআইনি না হলেও বৈধ ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে ভোটের ফলাফলের মার্জিন বদলে দেওয়ার এক জটিল প্রক্রিয়া।’
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরালদ গুলব্রান্ডসন তার দেশের শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘নরওয়েতে নির্বাচনী প্রচারণা অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। সেখানে রাজনৈতিক নেতারা জনসমক্ষে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নীতিগত ইস্যুতে বিতর্কে অংশ নেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় টেলিভিশনে শীর্ষ নেতাদের বিতর্ক এবং স্কুলভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা হয়। নাগরিক পর্যায়ের এই সক্রিয় আলোচনা ও বিতর্কের ফলেই নরওয়েতে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ ভোটার উপস্থিতি বজায় থাকে।’
ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ বলেন, ‘বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো সাইবার নিরাপত্তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণকে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
শ্রীলঙ্কার কেলানিয়া ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার ড. জর্জ কুক তার দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ রূপান্তরই গণতন্ত্রের বিজয়।’ তিনি প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ভোটারদের সজাগ ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।