বাসস
  ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৯

আলেপ্পোয় সংঘর্ষের পর সিরিয়ার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা 

ঢাকা, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আলেপ্পোয় শুক্রবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সেনাবাহিনী ও কুর্দিদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর এ ঘোষণাটি এলো।

কয়েক দিন ধরে সেনাবাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েক হাজার বেসামরিক মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। দামেস্ক থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

সহিংসতায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে। ইসলামপন্থী কর্তৃপক্ষ ক্ষমতা নেওয়ার এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ।

মঙ্গলবার থেকে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী আলেপ্পোয় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সঙ্গে লড়ছে সরকারি বাহিনী।

কারা সংঘর্ষ শুরু করেছে, তা নিয়ে উভয় পক্ষই পরস্পরকে দোষারোপ করছে। 

কুর্দিদের প্রশাসন ও সামরিক কাঠামো নতুন সরকারের সঙ্গে একীভূত করার চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এসডিএফ সিরিয়ার তেলসমৃদ্ধ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। 

২০১৯ সালে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর ভূখণ্ডগত পরাজয়ে তাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আবাসিক এলাকায় নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এড়াতে আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ, আশরাফিয়েহ ও বানি জেইদ এলাকায় ভোর ৩টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হলো।’

কুর্দি যোদ্ধাদের শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার মধ্যে ওই এলাকা ছাড়ার সময় দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, লক্ষ্য হলো, সংঘর্ষে বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল পরিবেশে নিজ নিজ ঘরে ফিরে স্বাভাবিক জীবন শুরু করার সুযোগ দেওয়া।

আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আলঘারিব রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানাকে বলেন, তিনি আশরাফিয়েহ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন।

সরকারি ঘোষণার বিষয়ে কুর্দি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

-‘যুদ্ধ নয়-’

এএফপি’র এক সংবাদদাতা জানান, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কুর্দি অধ্যুষিত আশরাফিয়েহ ও শেখ মাকসুদ এলাকায় তীব্র লড়াই চলেছে।

অভিযান শুরুর আগে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মানবিক করিডোর দিয়ে সরে যেতে নির্দেশ দেয় সিরীয় সেনাবাহিনী।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, প্রায় ১৬ হাজার মানুষ এলাকা ছেড়েছেন।

৪৩ বছর বয়সী রানা ইসা, বৃহস্পতিবার সকালে পরিবার নিয়ে আশরাফিয়েহ ছাড়েন। 

তিনি বলেন, ‘আমরা খুব কঠিন সময় পার করেছি। আমার সন্তানরা ভীষণ আতঙ্কিত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে চলে যেতে চান। কিন্তু স্নাইপারের ভয়ে সাহস পাচ্ছেন না।’ 

এসডিএফ প্রধান মাজলুম আবদি বলেন, কুর্দি এলাকাগুলোতে হামলা ‘সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করছে।’ 

মার্চে একীভূতকরণ চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি কয়েক দিন আগে দামেস্ক সফর করেছিলেন।

চুক্তিটি গত বছরই বাস্তবায়নের কথা ছিল। তবে বিকেন্দ্রীকৃত শাসনব্যবস্থার দাবিসহ নানা মতভেদের কারণে অগ্রগতি থমকে আছে।

এপ্রিল মাসে কুর্দি যোদ্ধারা এলাকা ছাড়তে সম্মত হলেও শেখ মাকসুদ ও আশরাফিয়েহ এখনো এসডিএফ-সংযুক্ত কুর্দি ইউনিটগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সিরিয়ার সঙ্গে ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত ভাগ করা তুরস্ক সীমান্ত এলাকা থেকে কুর্দি বাহিনীকে হটাতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়েছে।

সেঞ্চুরি ইন্টারন্যাশনাল গবেষণা কেন্দ্রের ফেলো অ্যারন লুন্ড এএফপিকে বলেন, ‘আলেপ্পোই এসডিএফ-এর 

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা।’

তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন যোগাড়ের চেষ্টা করছে।’

সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে ‘সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল জুড়ে দামেস্ক ও এসডিএফের পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে তুরস্ক ও ইসরাইলও জড়িয়ে যেতে পারে, যা সিরিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ হতে পারে’ বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ উৎখাতের পর থেকে সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে ইসরাইল ও তুরস্ক প্রতিযোগিতায় রয়েছে।

কুর্দি নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কামিশলিতে আলেপ্পোর সহিংসতার বিরুদ্ধে কয়েক শত মানুষ বিক্ষোভ করে।

৬১ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী সালাহউদ্দিন শেখমুস বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চাই।’ 

অনেকে ‘যুদ্ধ নয়’ ও ‘জাতিগত নির্মূল নয়’ এমন স্লোগান লেখা ব্যানার বহন করেন।

তুরস্কের কুর্দি অধ্যুষিত দিয়ারবাকিরেও কয়েক শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।