বাসস
  ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:০০
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:০৪

রপ্তানির আড়ালে প্রায় ৩০ কোটি টাকা পাচার : আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ৩০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে আলিফ ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মামলার অভিযুক্তরা হলেন কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজিমুল ইসলাম, পরিচালক, মো. রফিকুল ইসলাম এবং স্বাধীন পরিচালক তানিম নোমান সাত্তার ও মো. আজহারুল ইসলাম।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে গতকাল গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ধারা ৪(২)/৪(৪) এর আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি(এক্সিম ব্যাংক)-এর হেড অফিস করপোরেট শাখা থেকে ছয়টি এলসি বা সেলস কন্ট্রাক্টের বিপরীতে ৫৬টি এক্সপি গ্রহণ করেন। এসব এক্সপির মাধ্যমে রেডিমেড গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি দেখালেও নির্ধারিত সময়ের পরও রপ্তানিমূল্য দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়নি, যা প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্যতা পাওয়া যায়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আলিফ ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড বৈধ আমদানির ঘোষণা প্রদান করলেও প্রকৃতপক্ষে ঘোষণাকৃত পণ্যের তুলনায় কম বা ভিন্ন পণ্য আমদানি করে প্রায় ২৯ কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার ৩৫৩ টাকার সমান। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত কার্যালয় ও কারখানার নথিপত্র, আমদানি সংক্রান্ত কাগজপত্র, এলসি ডকুমেন্ট, ব্যাংক হিসাব বিবরণীসহ অন্যান্য আর্থিক তথ্য পর্যালোচনা করে অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য ও পরিমাণে গরমিল দেখিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট পরিচালনা করছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তকরণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।