শিরোনাম

ঢাকা, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : রায়েরবাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত পরিচয়ে শায়িত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের ডিএনএ পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে।
ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আট শহীদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আজ রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এসময় বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহত অনেক নারী ও পুরুষের মৃতদেহ অজ্ঞাত পরিচয়ে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
শহীদদের পরিচয় উদঘাটনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে সিআইডির ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে।
আজ আমরা ঘোষণা করছি যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৯টি পরিবারের সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে ইতোমধ্যে আটজন অজ্ঞাতনামা শহীদের পরিচয় সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
এই শনাক্তকরণের ফলে শহীদের পরিবারগুলো অন্ততপক্ষে জানতে পারছে যে, তাদের প্রিয়জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে বা তারা ঠিক কোন স্থানে শায়িত আছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘উত্তাল সময়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহত অনেক নারী ও পুরুষের মৃতদেহ রায়েরবাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা হয়েছিল। তখন তাদের পরিচয় এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করাকে রাষ্ট্র তার একটি নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব হিসেবে মনে করে। সেই গুরু দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই অজ্ঞাতনামা শহীদদের পরিচয় শনাক্তকরণে একটি পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই কঠিন ও সংবেদনশীল কাজটি সম্পন্ন করতে সিআইডি ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল টিমগুলো অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আজকের এই দিনে সেইসব শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং সম্মান জানাচ্ছি। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি— যেন শহীদদের আত্মা শান্তি পায়।’
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের একটি অংশ। এই শহীদ পরিবারের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করার কোনো ভাষা নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘আশা করি যে— আমরা অন্তবর্তীকালীন সরকার ও আগামীতে যে সরকারগুলো আছে, তারা এই শহীদদের প্রত্যাশিত বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে পরিবারের প্রতি আমাদের এই জাতির ঋণ পরিশোধের ভূমিকা রাখবে। অশেষ কৃতজ্ঞতা শহীদদের এবং শহীদ পরিবারের কাছে।’