বাসস
  ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩৮

দুর্নীতি ও পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে তরুণদের সক্রিয় হতে হবে : মৎস্য উপদেষ্টা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার । ফাইল ছবি

ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের জন্য দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাদের উচিত দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকা। আগামী প্রজন্মের জন্য দেশকে সুস্থ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ রাখা আমাদের সবার কর্তব্য।’

উপদেষ্টা আজ শনিবার সকালে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এএসএইউবি) তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

নিজেদের আচরণ, পেশাদারিত্ব ও চারিত্রিক গুণাবলির মাধ্যমে অর্জিত ডিগ্রির মর্যাদা উজ্জ্বল ও অক্ষুণ্ন রাখতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতন থাকতে হবে। ধূমপান ও তামাকের ব্যবহার শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করে। ছেলে ও মেয়েরা প্রায়ই মনে করে সিগারেট বা নেশা করলে তারা ‘স্মার্ট’ বা ফ্যাশনেবল মনে হবে। বাস্তবে এটি হার্টের রোগ, ক্যান্সারসহ বহু অসুখের কারণ। সম্প্রতি ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণে একটি আইন প্রবর্তন করা হয়েছে, যা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য শীতলক্ষ্যা নদী হয়ে মেঘনায় গিয়ে পড়ছে, যা ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর অস্তিত্বকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে। নদী দূষণমুক্ত করা শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয়, বরং এ ক্ষেত্রে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা অপরিহার্য।

এক গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ইলিশ মাছের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক, লেড ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আশা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম রেজাউল করিম।

সমাবর্তনে বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। এছাড়াও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফারুক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন। 

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন ২ হাজার ৯৬ জন এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন ১ হাজার ৯০০ জন। 

অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী ৬ শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলরস অ্যাওয়ার্ড এবং ৯ শিক্ষার্থীকে ভাইস-চ্যান্সেলরস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন।