বাসস
  ১৩ মার্চ ২০২৬, ০০:৩১

খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

ছবি: বাসস

খুলনা, ১২ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রাম থেকে নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতুকে নিয়ে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শ্যাওলাবুনিয়া গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন বর মো. সাব্বির। তাদের সঙ্গে ছিলেন দুই পরিবারের ১৩ সদস্য।

পথে রামপাল উপজেলার খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজের কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালকসহ মোট ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে।

নিহতদের সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী বলে নিশ্চিত করেন বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি জাফর আহমেদ।

তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ১০ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।

নিহতরা হলেন, বর সাব্বির (৩০), নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু (২৫), মিতুর নানি আনোয়ারা (৭০), দাদি রাশিদা বেগম (৭৫), বোন লামিয়া (১২), বরের বাবা আব্দুর রাজ্জাক (৭০), মা আঞ্জুমান বেগম (৬০), বরের ভাবি পুতুল (৩৫), আলিফ (১২), বরের বোন ঐশি (৩০), ঐশির স্বামী সামিউল, আব্দুল্লাহ সানি (১২), দেড় বছরের শিশু ইরাম ও মাইক্রোবাসের চালক নাঈম (৪০)।

নিহতদের মধ্যে ১০ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. মেহনাজ মোশাররফ। এছাড়া, নিহত বাকি চারজনের লাশ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জন পুরুষ ও দু’জন নারী। গুরুতর আহত আরেকজন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরযাত্রীরা বিয়ের পর মাইক্রোবাসে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রাম থেকে নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতুকে নিয়ে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শ্যাওলাবুনিয়া গ্রামে বরের বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে রামপাল উপজেলার খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৪টার দিকে মোংলা থেকে ছেড়ে আসা বাসটি বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

খুলনা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. জাকারিয়া বলেন, দুর্ঘটনায় মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও বাকি চারজনের লাশ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছে। এছাড়া, একজন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।