শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আলিফ ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডি’র ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট গত ১৭ ডিসেম্বর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ২(শ)(৫) ধারায় বর্ণিত সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং উক্ত আইনের ৪(২)/৪ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
অভিযুক্তরা হলেন— আলিফ ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান মো. আয়নাল হক (৬৮) এবং আলিফ ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আলিফ ওয়ার্ল্ড ডটকম-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম রয়ন (৩০)।
বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্তরা আলিফ ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং লিমিটেডের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার করতেন। প্রচারণায় তারা দাবি করতেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১ লাখ ৮ হাজার ৫৪০ টাকা বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়ে অথবা কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে জমা দিলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে একটি পালসার ডাবল ডিস্ক মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করা হবে।
এ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের গেটওয়ে হিসেবে ফস্টার পেমেন্ট নামক একটি আর্থিক লেনদেন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়ে অসংখ্য গ্রাহক ওই গেটওয়ে ও কোম্পানির বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অর্থ প্রদান করেন। তবে, অল্প কিছু গ্রাহক পণ্য পেলেও বিপুল সংখ্যক গ্রাহক নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কোনো পণ্য পাননি। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা কোনো পণ্য সরবরাহ কিংবা অর্থ ফেরত না দিয়ে অফিস বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়।
এতে আরো বলা হয়, এ ঘটনায় প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি বাদী হয়ে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করে। তদন্তকালে ব্যাংক হিসাব বিবরণী, গ্রাহকদের অর্ডার ও ইনভয়েস, ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, অভিযুক্ত দু’জন পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ নগদে উত্তোলন, নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর এবং ভোগ-বিলাসে ব্যয়ের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হন।
অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ এবং অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানায় সিআইডি।