বাসস
  ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫৬

হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালান: ইয়াছিন-শাহিন চক্রের ২০টির বেশি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

ফাইল ছবি

ঢাকা, ৭ জানুয়ারি, ২০২৫ (বাসস): অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা, স্বর্ণ চোরাচালান ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত ইয়াছিন (৩৫) ও তার সহযোগীদের নামে থাকা ২০ টির  বেশি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, মতিঝিল (ডিএমপি) থানায় ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবরে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ৪(২) ও ৪(৪) ধারায় দায়ের করা মামলার তদন্তকালে অভিযুক্ত ইয়াছিনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা পরিচালনা ও অর্থপাচারের গুরুতর তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে আরো জানা গেছে যে, ইয়াছিন ক্রোকারিজ বাজার, ভাইভাই ট্রেডিং, আফিয়া গিফট এন্টারপ্রাইজ, লাবিব এন্টারপ্রাইজ ও আফিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একাধিক ভুয়া ও আড়ালকারী প্রতিষ্ঠান খুলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা পরিচালনা করতেন। বিদেশে অবস্থানরত তার সহযোগীরা প্রবাসীদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে স্বর্ণ ও উন্নতমানের কসমেটিকস ক্রয় করে সমুদ্রপথ ও বিমানযোগে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাঠাতেন।

বাংলাদেশে এসব অবৈধ পণ্য চোরাকারবারি চক্রের মাধ্যমে বিক্রি করে পাওয়া অর্থ অভিযুক্ত ইয়াছিনের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হতো। বিদেশে থাকা সহযোগীরা বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে নামের তালিকা পাঠালে ইয়াছিন দেশে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে বাংলাদেশি টাকায় তথাকথিত রেমিট্যান্স পৌঁছে দিতেন।

তদন্তে আরও জান গেছে, ইয়াছিনের নামে থাকা ৯টি ব্যাংক হিসাবে ২০১৬ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট ২০ কোটি ৮৪ লাখ ২৫ হাজার ২১৪ টাকা অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে, যা তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

এছাড়া বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা স্বর্ণ এজাহারনামীয় অপর অভিযুক্ত শাহিন চৌধুরীর মালিকানাধীন ‘আল আরাফাত জুয়েলার্স’ এবং উজ্জল চৌধুরীর মালিকানাধীন ‘বিসমিল্লাহ জুয়েলার্স’—বায়তুল মোকাররম স্বর্ণ মার্কেট (২য় তলা), পল্টন এলাকায় ক্রয় করতেন। উজ্জল চৌধুরী অভিযুক্ত শাহিন চৌধুরীর আপন ভাই।

অভিযুক্ত ইয়াছিনের সঙ্গে যোগসাজশে শাহিন চৌধুরী, উজ্জল চৌধুরী ও রিফানসহ অন্যান্যরা স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে চোরাচালানের মাধ্যমে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা স্বর্ণ কিনে তাদের দোকানের কর্মচারীদের মাধ্যমে ইয়াছিনের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অর্থ পরিশোধ করতেন।

সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিযুক্ত শাহিন চৌধুরীর নামে থাকা ১২টি ব্যাংক হিসাবে ২০১৩ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

এর মধ্যে জমা হয়েছে ৪৩ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ২০১ টাকা এবং উত্তোলন হয়েছে ৪৩ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৯৫ টাকা।

মামলার অনুসন্ধানকালে প্রায় ৬ কোটি ৬৭ লাখ ৬৮ হাজার ১০০ টাকা মানিলন্ডারিংয়ের সুস্পষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়ায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ১৪(১) ধারায় অভিযুক্তদের নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, এনআরবি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের একাধিক শাখায় থাকা হিসাবসমূহ অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আবেদন জানানো হয়।

শুনানি শেষে আদালত সিআইডির আবেদন মঞ্জুর করে উক্ত সব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার নির্দেশ দেন।