শিরোনাম

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু ডিগ্রি প্রদান করা নয়, সমাজকে ভাবতে শেখানোও তার দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ‘একটি সমাজ তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সে নিজেকে প্রশ্ন করতে পারে এবং এই প্রশ্ন করার সাহস তৈরি হয় জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে।’
আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ প্রাঙ্গণে নবম নন-ফিকশন বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বণিক বার্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের যৌথ উদ্যোগে এই বইমেলার আয়োজন করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যখন তথ্যের অভাব নেই, কিন্তু জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণে নন-ফিকশন বইয়ের ভূমিকা অপরিসীম।’
শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি উৎসাহিত করে তিনি বলেন, ‘নন-ফিকশন পড়ুন, প্রশ্ন করুন, তর্ক করুন ও ভাবুন। কারণ চিন্তাশীল নাগরিক ছাড়া কোনো সমাজ এগোতে পারে না।’
বইমেলার তাৎপর্য তুলে ধরে অধ্যাপক আবরার বলেন, ‘এই মেলা দেয়ালের ভেতরের জ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই চিন্তার কেন্দ্র এবং এই আয়োজন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সমাজকে আলোর পথ দেখানোই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ।
সমাপনী অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের শ্রেষ্ঠ দুটি বইয়ের জন্য ‘নন-ফিকশন গ্রন্থ সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্ত বিজয়ী লেখক ও গ্রন্থগুলো হলো— নূরুল কবীরের ‘দ্বিরালাপ: চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও পূর্বাপর রাজনীতি সম্পর্কে বিশ্লেষণমূলক আলাপচারিতা’। এই বইটি প্রকাশ করেছে কথা প্রকাশ। আর মুহম্মদ ইউসুফ সিদ্দিকির লেখা— ‘শিলালিপি : বাংলার আরবি-ফারসি প্রত্নলেখমালা’। এই বইটি প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশন।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এই সম্মাননা একটি বিশেষ বার্তা দেয় যে, গভীর গবেষণা, পরিশ্রমী লেখা এবং দায়িত্বশীল চিন্তার যথাযথ মূল্যায়ন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
উল্লেখ্য, এবারের বইমেলায় দেশের মোট ৩৯টি প্রকাশনা ও গবেষণা সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে।