বাসস
  ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:১১

সমাজ এগিয়ে নিতে দক্ষতা-উদ্ভাবনী চিন্তার ওপর গুরুত্বারোপ শিক্ষা উপদেষ্টার

আজ চট্টগ্রামের নেভি কনভোকেশন সেন্টারে ‘চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ)’-এর ৩য় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ‘কনভোকেশন চেয়ার’ হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। ছবি: বাসস

চট্টগ্রাম, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, এসব গুণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার না হলে সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না।

পরিবেশবান্ধব ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পর্যায়ে বড় সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়। কোন পথে আমরা যাব- পুরোনো বৈষম্য ও সংকটের পথে, নাকি নতুন ও ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থার পথে- এই সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে।’

আজ সোমবার সকালে চট্টগ্রামের টাইগারপাসের নেভি কনভেনশন সেন্টারে চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) ৩য় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষা উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। 

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক- এর চেয়ারপার্সন, ‘পাওয়ার এন্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)’- এর নির্বাহী সভাপতি, এবং বাংলাদেশ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তৃতা প্রদান করেন।

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, ডিগ্রি নয়, অর্জিত জ্ঞান সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করাই শেষ সাফল্য নয়; বরং এই অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সমাজ, রাষ্ট্র ও মানবকল্যাণে কী অবদান রাখা যায়- সেটাই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

তিনি বলেন, শিক্ষা জীবন শেষ করে আজকের গ্র্যাজুয়েটরা একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। পারিবারিক পরিসর থেকে বের হয়ে তারা কর্মজীবনের বৃহৎ পরিসরে যুক্ত হবে- কেউ সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে, কেউ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, কেউ উদ্যোক্তা কিংবা গবেষক হিসেবে দেশ ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, কর্মক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়- দেশের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ন্যায্যতা, যুক্তি ও নৈতিকতার ভিত্তিতেই প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সিআইইউ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান লুৎফে এম আইয়ুব, সিআইইউ’র এডুকেশন, সায়েন্স, টেকনোলজি এন্ড কালচারাল ডেভেলপম্যান্ট ট্রাস্ট (ইএসটিসিডিটি)- এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকারিয়া খান এবং সিআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীর মোহাম্মদ নুরুল আবসার। 

অনুষ্ঠানে সিআইইউ’র বিভিন্ন অনুষদের মোট ১৬৮ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ১২১ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন, প্রকৌশল, আইন, এবং লিবারেল আর্টস অনুষদ থেকে পাস করা স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং বাকী ৪৭ জন স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী। 

অনুষ্ঠানে সাতজন শিক্ষার্থীকে তাদের স্ব স্ব প্রোগ্রামে অসামান্য কৃতিত্বের ফলস্বরূপ ‘টপ এ্যাচিভার্স’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।