বাসস
  ০৭ মার্চ ২০২৬, ১২:১২

নড়াইলে জমে উঠেছে ঈদ বাজার 

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নড়াইলে জমে উঠেছে ঈদের বাজারের কেনাবেচা। ছবি: বাসস

\ সুলতান মাহমুদ \

নড়াইল, ৭ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে ঈদের বাজারের কেনাবেচা। 

বাহারি পোশাক, প্রসাধনী, অলংকার ও গ্রোসারী পণ্যের জমজমাট বেচাকেনা শুরু হয়েছে। ব্যস্ততা বেড়েছে পোশাক তৈরির টেইলার্সগুলোতে। বিভিন্ন আয়ের মানুষ পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের কেনাকাটায় মেতে উঠেছেন। নতুন পোশাকসহ ঈদ পণ্য কিনতে দোকানে বেড়েছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। মার্কেট গুলোতে  প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত থাকছে সরগরম। দাম ও বেচাকেনা সন্তোষজনক বলছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়িরা।

শহরের বড় বড় মার্কেট, বিপনি বিতান ও স্থাপনায় করা হয়েছে মনমুগ্ধকর আলোকসজ্জা। শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এই বছর দেশীয় পোশাকের চাহিদা বেশি। ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে বিপনি বিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফুটপাত থেকে শুরু করে আভিজাত্যের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। এবারে ক্রেতাদের কাছে বিশেষ করে দেশীয় পোশাকের বেশ চাহিদা রয়েছে। 

শহরের রুপগঞ্জ বাজারের আলতাফ হোসেন শপিং কমপ্লেক্স, ভূঁইয়া শপিং কমপ্লেক্স, মোস্তারী কমপ্লেক্স, জমাদ্দার টাওয়ার, সিকদার কমপ্লেক্স, ব্যানার্জী মার্কেট, মোল্যা মার্কেট, হকার্স মার্কেটের কাপড়পট্টি ও স্বর্ণ পট্টিতে জমে উঠেছে ঈদের বেচাকেনা। ক্রেতারা তাদের সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পোশাক কিনতে ঘুরছেন বিভিন্ন দোকানে। দর কষাকষি করে কিনছেন।

অনেকে তাদের পছন্দের পোশাক পেয়েও যাচ্ছেন। রেডিমেট বা গার্মেন্টস পোশাকের দোকানে বেশি বেচাকেনা হচ্ছে। শহরের ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক গার্মেন্টসের দোকান আছে। ব্যবসায়িরা ভাল মুনাফা করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।

ঈদের কেনাকাটা করতে আসা নারগিস সুলতানা বাসস’কে বলেছেন, নিজের ও পরিবারের সদস্যদর জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাসি মুখে ঈদ উদযাপন করতে পারলেই আমাদের ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পাবে। এবছর কেনাকাটা করে ভালো লাগছে। পোশাকের দাম সহনীয় রয়েছে।

ক্রেতা রিপন হোসেন বলেন, ঈদ মার্কেটে পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে আছে।

সাধ ও সাধ্যের মধ্যে স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ নিজের জন্য নতুন পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল এবং পাঞ্জাবি কিনেছি।

এক থেকে তিন হাজার টাকা মধ্যে বিভিন্ন ধরণের পোশাক কিনতে পেরেছি।

অপর  ক্রেতা তাসলিমা বেগম বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিদেশি পোশাক কেনার আগ্রহ কম।

বাজারে পোশাক, প্রসাধনী ও সাজসজ্জা উপকরণের দাম খুব একটা বেশি না। 

স্কুলপড়ুয়া তাবাসসুম ফাতেমা বাসস’কে জানিয়েছে, সে তার আম্মুর সঙ্গে ঈদ বাজারে এসেছে। দেড় হাজার টাকার মধ্যে নতুন পোশাক কিনেছে।

নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ বাজারের গার্মেন্টস দোকানি গোবিন্দ শীল জানান, তাদের দোকানগুলোতে ১০ রোজার পর থেকেই বেচাকেনা জমে ওঠেছে। প্রতিদিন ভালো বিক্রি হচ্ছে।

দিনের পাশাপাশি রাত ১১টা পর্যন্ত ক্রেতা আসছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশে বেচাকেনা চলছে।

‘পায়ে পায়ে সু’ দোকান মালিক ওবায়দুর রহমান বোরহান বলেছেন, মাসের প্রথমদিকে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা বেতন পাওয়ায় মার্চের শুরুতেই ক্রেতারা ভিড় করছেন।

নতুন ডিজাউনের স্যান্ডেল-জুতা কিনছেন। আশা করছি, শেষ পর্যন্ত এভাবে জমজমাট বেচাকেনা চলবে। ঈদবাজারে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে।

নড়াইল জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি, ভেজালরোধসহ সার্বিক মনিটরিং করা হচ্ছে। ব্যবসায়িক পরিবেশ ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। উৎসবমূখর পরিবেশে সবাই যাতে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সেদিক লক্ষ্য রেখে প্রশাসনের কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন।