বাসস
  ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:২১

সমাজকে কী দিচ্ছি, সেটাই হবে সফলতার মাপকাঠি: শিক্ষা উপদেষ্টা

আজ চট্টগ্রামের নেভি কনভোকেশন সেন্টারে ‘চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ)’-এর ৩য় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ‘কনভোকেশন চেয়ার’ হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। ছবি: বাসস

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেছেন, ডিগ্রি মানুষকে সুযোগ করে দেয়, কিন্তু শিক্ষা শেখায় দায়িত্ববোধ। ব্যক্তিগত অর্জন দিয়ে জীবনের প্রকৃত সার্থকতা মাপা যায় না, বরং বৃহত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রকে আমরা কী দিচ্ছি, সেটাই হবে সফলতার আসল মাপকাঠি।

আজ চট্টগ্রামের নেভি কনভোকেশন সেন্টারে ‘চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ)’-এর ৩য় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ‘কনভোকেশন চেয়ার’ হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে শিক্ষা উপদেষ্টা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের মহান আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ‘শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই জাতি আজ অধিকারবঞ্চিত প্রজা থেকে মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে অধিকার পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে।’

সমাবর্তনপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. সি আর আবরার বলেন, ‘আজকের দিনটি শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কর্মজীবনে প্রবেশের এই মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যা কেবল ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়।’ তিনি শিক্ষার্থীদের ন্যায়নীতি, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও ঐতিহ্যকে ধারণ করার আহ্বান জানান।

প্রযুক্তির উৎকর্ষতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রযুক্তির দাস হলে চলবে না, বরং মানুষকেই প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ তথ্যের অবাধ প্রবাহের এই যুগে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়ে বিবেক, যুক্তি ও বিচার-বিশ্লেষণী ক্ষমতা প্রয়োগের ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

শিক্ষা উপদেষ্টা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের মতো বৈশ্বিক ও জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের আবশ্যিক দায়িত্ব।

অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সন্তানদের শিক্ষার পেছনে আপনাদের যে ত্যাগ রয়েছে, তা তখনই সার্থক হবে যখন তারা নৈতিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। একই সাথে তিনি শিক্ষকদের ধৈর্য ও নিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মান জানান।