শিরোনাম

শফিকুল ইসলাম বেবু
কুড়িগ্রাম, ২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : কুড়িগ্রামে দিন দিন বাড়ছে শীতের তীব্রতা। দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে আসায় জেলাজুড়ে শীতের দাপট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে গ্রাম ও চরাঞ্চলে শীত এখন মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনে শীতের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
জেলার রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন ছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে প্রকৃত শীতের অনুভূতি আরও বেশি হচ্ছে।
শুক্রবার সকাল থেকে বেলা সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জেলা শহরে সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ আর হিমেল হাওয়ায় জেলাজুড়ে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী, দুঃস্থ মানুষ ও শিশুদের অভিভাবকরা।
কুয়াশার কারণে জেলার চিলমারী-রৌমারী-রাজিবপুর নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদে চলাচলকারী নৌযানগুলো সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। চরাঞ্চলের মানুষজন পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। জীবিকার তাগিদে কেউ কেউ শীত উপেক্ষা করে কাজে বের হলেরও অনেক দিনমজুর ও কৃষকেরা কাজ করতে পারছেন না। এতে তাদের আয় ইনকাম বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে।
রাজিবপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত চর এলাকার দিনমজুর আব্দুল লতিফ বলেন, ভোরে কাজে বের হওয়া খুব কষ্টের। ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে যায়। কিন্তু কাজ না করলে না খেয়ে থাকতে হবে।
একই এলাকার গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, বাচ্চাদের নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। সকালে এত ঠান্ডা যে ওদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। গরম কাপড় নেই, কম্বলও সবাই পায়নি।
এ বিসয়ে রাজিবপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রায় ৫১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ইউনিয়নে বসবাস করছেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। গত সাত দিন ধরে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। সরকারিভাবে মাত্র ১৮০টি কম্বল পাওয়া গেছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। শুধু কম্বল নয়, মানুষজনের সোয়েটার, চাদর ও ট্রাউজারেরও প্রয়োজন।
দুর্ভোগে থাকা মানুষের দাবি, মাঠে ও বাইরে কাজ করার উপযোগী শীতবস্ত্র দ্রুত সরবরাহ না করা হলে কষ্ট আরও বাড়বে।
এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়লেও কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডেও রোগীর চাপ বাড়ছে।
তাই শীতে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আল-আমিন মাসুদ বলেন, শীতে শিশুদের সুরক্ষায় বাড়তি যত্ন নিতে হবে। কুয়াশায় শিশুদের বাইরে বের করা উচিত নয়। গ্রামাঞ্চলে ঘরের ভেতর খড় জ্বালিয়ে উত্তাপ নেওয়া শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এর পরিবর্তে গরম কাপড় পরানো ও নিরাপদে রাখাই উত্তম।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, তাপমাত্রা ক্রমেই কমছে।
উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি বেশি হচ্ছে। সামনে আরও শীত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শীতের এই তীব্রতায় দ্রুত পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ ও মানবিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন জেলার শীতার্ত মানুষ।