শিরোনাম

বগুড়া, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল বলেছেন, আমরা নতুন বাংলাদেশ চাই। আমরা দুর্নীতিমুক্ত ও নৈতিক সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
আসনটিতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন বগুড়া শহর জামায়াতের আমির ও দলটির মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল।
তিনি ২০১৪ সালে বগুড়া সদর উপজেলার ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিল। এছাড়া ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচন নিয়ে নানা ভাবনা তুলে ধরেছেন এ প্রার্থী।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বগুড়া জেলা সংবাদদাতা কালাম আজাদ।
বাসস : আপনার স্থানীয় ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
আবিদুর রহমান সোহেল : নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। সারাদেশে একটি সৎ নেতৃত্ব সেট করেছে জামায়াতে ইসলামী। এই নেতৃত্বের অধীনে আমাদের আমীরে জামায়াত আধুনিক, মানবিক, কল্যানমুখী রাষ্ট্র গঠনের রুপরেখা তৈরি করেছেন। আমরাও দুর্নীতিমুক্ত ও নৈতিক সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। এছাড়াও শিক্ষা-স্বাস্থ্য, মাদকমুক্ত সমাজ এবং ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক মানবিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যা বলা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা হবে। বগুড়ার স্থানীয় সমস্যা হিসেবে যেটা বেশি দেখছি, রাস্তায় যানযটের যে অবস্থা সেটা নিরসন করবো। বেহাল রাস্তাঘাটগুলোর সংস্কার করবো। বগুড়াকে সন্ত্রাসের নগর বলা হয়। বগুড়ায় প্রতি মাসে ৮-১০টা খুন হয়। বগুড়া অনেক আগে সিটি করপোরেশন হতো, যা আজও হয়নি। একটা বিশ্ববিদ্যালয় দরকার। আমরা ক্ষমতায় এলে এসব চালু করবো।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি এবং প্রচারণা সম্পর্কে আপনার নির্দেশনা কী?
আবিদুর রহমান সোহেল : জামায়াতে ইসলামী সবসময় আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ প্রচারণায় বিশ্বাসী। নেতাকর্মীদের শালীন আচরণ ও জনগণের সঙ্গে সৌহার্দ্য বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমাদের নির্দেশনা দেয়া আছে, কোথাও অতিরিক্ত মাইক ব্যবহার করে অযথা শব্দদূষণ না করা। জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা শৃঙ্খলা পছন্দ করেন। তারা কোনো ধরনের সহিংসতায় সম্পৃক্ত হবেন না, এটা আমাদের বিশ্বাস।
বাসস : জুলাই সনদসহ গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
আবিদুর রহমান সোহেল : বগুড়ায় শহীদ রাতুল, শহীদ শিমুলদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। তারা জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা না রাখলে, শহীদ না হলে হয়তো আবারও ২৯ সালে শেখ হাসিনার সরকারের নিয়ন্ত্রণে পাতানো নির্বাচনে অংশ নিতে হতো। এই শহীদদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া জুলাই সনদ গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়াকে জামায়াত ইতিবাচকভাবে দেখে।
বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
আবিদুর রহমান সোহেল : ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং ফলাফল যেন জনগণের প্রকৃত রায়কে প্রতিফলিত করে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ন্যায়, কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে উঠবে এটাই আশা।
বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৭ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৬ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন। এটি বগুড়া পৌরসভা ও ১১ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে ভোট কেন্দ্র ১৫০টি (স্থায়ী)। ভোট কক্ষ ৮৩৫ টি।
আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির তারেক রহমান (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা), জেএসডির আবদুল্লাহ আল ওয়াকি (তারা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু নোমান মো. মামুনুর রশিদ (হাতপাখা) ও বাসদ এর দিলরুবা নূরী (মই)।