শিরোনাম

চাঁদপুর, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): চাঁদপুর -৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী জনগণের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে জানমালের নিরাপত্তা, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, সার্বিক সমাজ ব্যবস্থার উন্নয়নে মৎস্য চাষ, কৃষি এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কাজ করবো।’
বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বর্তমানে চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর। তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর জামায়াত ইসলামীর রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক।
তার সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বাসসের চাঁদপুর জেলা সংবাদদাতা আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?
বিল্লাল হোসেন : এদেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা তারা যেন তাদের মৌলিক অধিকার সাবলীলভাবে ভোগ করতে পারে। কিন্তু তারা সে অধিকার থেকে বঞ্চিত। বহু আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এ দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত হওয়ার পর মানুষের মাঝে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তারা যাতে স্বাধীন, সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে, সেই প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই আমরা আমাদের নির্বাচনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
আমরা যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে আমরা মানুষের জান-মাল ও ইজ্জত রক্ষার জন্য কাজ করবো। সমাজে মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারে সেজন্য আমরা ইনশাল্লাহ সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এছাড়াও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের স্বল্পমূল্য নিশ্চিত করা, শিক্ষার ভালো পরিবেশ এবং ভালো প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির জন্য কাজ করবো। এলাকার মানুষ যাতে সম্মানের সাথে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে সেজন্য তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবো।
বাসস : নির্বাচনি আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
বিল্লাল হোসেন : এ দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার উচিত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমি ফরিদগঞ্জে আমার সব নির্বাচনি বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও সাইনবোর্ড অপসারণ করেছি। আমি আমার নেতাকর্মী ও জনশক্তিকে বলেছি, আমরা নির্বাচনি আচরণবিধি শতভাগ মেনে চলবো। নির্বাচনি আইনের যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে সেদিকে খেয়াল রেখেই আমরা নির্বাচনি প্রচারণা পরিচালনা করছি?
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী ?
বিল্লাল হোসেন মিয়াজি : জুলাই সনদের গণভোট নিয়ে আমার অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার। এই বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রচারণা চলছে। কেন্দ্রীয়ভাবে এই বিষয়ে প্রচারণার জন্য একটি লিফলেট ছাপানো হয়েছে। সেই লিফলেট আমাদের কাছে এসেছে। আমরা এটা জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। জনগণ যাতে জুলাই সনদে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেয় এবং এটা আইনি ভিত্তি পায়, সেজন্য আমরাও এক লক্ষ লিফলেট ছাপিয়ে এটা জনগণের মাধ্যমে প্রচারণা করেছি। এখনো আমরা আমাদের প্রত্যেকটা কার্যক্রমে জনগণ যাতে ‘হ্যাঁ’এর পক্ষে ভোট দেয় তার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছি।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী ?
বিল্লাল হোসেন: সংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশা আসলে অনেক ব্যাপক। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী জাঁতাকলে পিষ্ঠ মানুষ যখন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়েছিল। ছাত্র-জনতার তীব্র প্রতিরোধে শেষ পর্যন্ত এ দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। সুতরাং মানুষ এখন নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। যে বাংলাদেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না, জুলুম থাকবে না, চাঁদাবাজি থাকবে না, সন্ত্রাসী থাকবে না। কোনোপ্রকার দখলদারিত্ব থাকবে না।
সুতরাং আশা করি এবার জনগণ নতুন মুখ নিয়ে নতুন বাংলাদেশের জন্য তাদের মতামত ও রায় ইনশাল্লাহ দেবে। আল্লাহ চাহে তো আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে আমি ফরিদগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবো।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর ৪ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যান্যরা হলেন; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ, গণফোরামের মো. মুনীর চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. আব্দুল মালেক, স্বতন্ত্র মো. আবদুল হান্নান ও জাকির হোসাইন, জাতীয় পার্টির মাহমুদ আলম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মকবুল হোসাইন।
এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯১ হাজার ২৬৪। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৮৭ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৩৮৬ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন। মোট কেন্দ্র সংখ্যা ১১৮। মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ৭৩৭ টি।