বাসস
  ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:২৯

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই : টাঙ্গাইল-৮ আসনে জামায়াত প্রার্থী শফিকুল

টাঙ্গাইল-৮ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান। ছবি: বাসস

টাঙ্গাইল, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম দুই উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে চাই। 

বাসাইল ও সখিপুরের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়াই করা এ প্রার্থী।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান। দিয়েছেন নানা প্রশ্নের উত্তর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা মহিউদ্দিন সুমন।

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

শফিকুল ইসলাম খান : টাঙ্গাইলের অন্যান্য উপজেলার চেয়ে বাসাইল ও সখিপুর উপজেলা উন্নয়নের দিকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম এই দুই উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই। বাসাইল উপজেলার বর্তমান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ সজ্জায় উন্নীত করতে চাই। এছাড়া এ উপজেলা নিচু হওয়ার কারণে বন্যা মৌসুমে অনেক ফসলের জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়। তাই নদী ভাঙ্গন রোধে নদী শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাই। 

অন্যদিকে আমি বিজয়ী হতে পারলে সখিপুর উপজেলার বন বিভাগ কর্তৃক সাধারণ মানুষের দৌরাত্ম ও হয়রানি বন্ধ করতে চাই। পাশাপাশি এই দুই উপজেলার শিক্ষা বিস্তার, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে চাই। সেই সঙ্গে যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতার হাত থেকে রক্ষা করে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। তাদেরকে সমাজের বোঝা না বানিয়ে সম্পদে পরিণত করতে চাই।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

শফিকুল ইসলাম খান : আমার নির্বাচনী এলাকায় এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে। আমিসহ-নেতাকর্মীদের আচারণবিধি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  তবে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে আরও নজরদারি বাড়াতে হবে।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

শফিকুল ইসলাম খান : আমরা দলীয় নির্বাচন পরিচালনার পাশাপাশি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ভোটারদের কাছে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। বিগত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ২ হাজার মানুষের জীবনের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা পেয়েছি তা আমাদের ধরে রাখতে হবে। সংস্কার ও পরিবর্তনের জন্য আমাদের হ্যাঁ ভোটকে জয় যুক্ত করতে হবে। এ বার্তা আমরা সাধারণ ভোটাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।

বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

শফিকুল ইসলাম খান : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা শান্তি ও পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রার্থীদের এবার ভোট দেবে ভোটারা, এটাই প্রত্যাশা। বাসাইল ও সখীপুরের মানুযের একটি আদর্শিক সংগঠন ও নৈতিক মানদণ্ডে উন্নীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তারা বেছে নেবে। 

টাঙ্গাইল-৮ সখিপুর ও বাসাইল উপজেলা নিয়ে গঠিত। আসনটিতে ২টি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন রয়েছে। মোট ১৩১টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬ হাজার ৬২৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ১৯৮ জন এবং ৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, জামায়েত ইসলামীর মো. শফিকুল ইসলাম খান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আউয়াল মাহমুদ ও আমজনতা পার্টির মো. আলমগীর হোসেন।