বাসস
  ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫০

শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই মূল লক্ষ্য: বগুড়া-৬ আসনে বাসদ প্রার্থী দিলরুবা

বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী দিলরুবা নূরী। ছবি: বাসস

বগুড়া, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী দিলরুবা নূরী বলেছেন, শ্রমজীবী মানুষ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমার মূল লক্ষ্য।

পেশায় আইনজীবী এই নারী দলীয় প্রতীক ‘মই’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে চান।

নির্বাচন সংক্রান্ত নানা বিষয়ে কথা বলেছেন দিলরুবা নূরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বগুড়া জেলা সংবাদদাতা কালাম আজাদ।

বাসস : আপনার স্থানীয় ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

দিলরুবা নূরী : শ্রমজীবী মানুষ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমার মূল প্রতিশ্রুতি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে চাই। কারণ কর্মসংস্থানের প্রচণ্ড রকম সংকট। শহরে শ্রমজীবী মানুষের জড়ো হওয়া, রিকশা নিয়ে জীবিকার জন্য আসা, একইসঙ্গে কৃষিভিত্তিক বগুড়ায় কৃষক পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় প্রতিবছর লোকসানের মুখে পড়েন। এ থেকে আমাদের লড়াইয়ে অংশ নেওয়া। 

আবার এই যে শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য, এর থেকে মুক্তির প্রয়োজন। আবার বগুড়ায় দুটি সরকারি হাসপাতাল আছে। কিন্তু বগুড়ায় যে পরিমাণ মানুষ বসবাস করে তাতে চিকিৎসা সেবার জন্য পর্যাপ্ত না। সেখান থেকে আমরা মনে করি সমাধানের যে পথ, সেটি সরকারি উদ্যোগে যদি পরিকল্পনা না করা হয়, তাহলে সম্ভব না।

আমরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সামাজিককরণের মাধ্যমে, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে, শিল্প-কলকারখানা নির্মাণের মাধ্যমে সেগুলো সমাধানের দিকে নিয়ে যাবো। শিক্ষা খাতকে স্নাতক পর্যায়ে ফ্রি করার চেষ্টা করবো।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি এবং প্রচারণা সম্পর্কে আপনার নির্দেশনা কী?

দিলরুবা নূরী : বাসদ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রচারণায় বিশ্বাস করে। যে কোনো ধরনের কালো টাকা বা প্রভাব বিস্তারমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। বাসদ কোনো পেশিশক্তিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা শ্রমজীবীদের, কৃষকদের জন্য রাজনীতি করি। আমাদের সাংগঠনিকভাবেও নির্দেশনা আছে, আমরা জনগণের সেবা করতে আসছি। নিয়ম-বিধি মেনেই নির্বাচনী প্রচারণার কাজ পরিচালনা করবো আমরা।

বাসস : জুলাই সনদসহ গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

দিলরুবা নূরী : গণভোট তখনই অর্থবহ হবে যখন তা জনগণের বাস্তব সমস্যার সমাধানের সঙ্গে যুক্ত হবে। কেবল রাজনৈতিক প্রতীকী সিদ্ধান্ত নয়, জনগণের জীবনমান বদলাতে হবে। এই জীবন মান বদলানোর জন্য প্রয়োজন আর্থিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা। রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছাটাই মুখ্য। বিগত সময়ে সংসদ একটি ক্লাবে পরিণত হয়েছিল। জুলাই সনদের মাধ্যমে সংসদে জনগণের প্রতিনিধি করার পরিবেশ তৈরি হবে এমন আশা করি।

বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

দিলরুবা নূরী : নির্বাচন যেন ক্ষমতাবানদের নয়, সাধারণ মানুষের উৎসবে পরিণত হয় এটাই প্রত্যাশা। আমরা বরাবরই লক্ষ্য করেছি, সংসদ শুধু ধনী-শ্রেণিদের প্রতিনিধিত্ব করেছে। আমরা এর পরিবর্তন চাই। সেই লড়াই করতে চাই বলে আমরা রাজপথের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আগামী নির্বাচন যেন পেশি শক্তিবিহীনভাবে হয়। জনগণ যেন স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারেন, এটাই কাম্য।

বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৭ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৬ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন।

এটি বগুড়া পৌরসভা ও ১১ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে ভোট কেন্দ্র ১৫০টি (স্থায়ী)। ভোট কক্ষ ৮৩৫ টি। 

আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির তারেক রহমান (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা), জেএসডির আবদুল্লাহ আল ওয়াকি (তারা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু নোমান মো. মামুনুর রশিদ (হাতপাখা) ও বাসদ এর দিলরুবা নূরী (মই)।