শিরোনাম

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : অতিরিক্ত সময়ে রোমাঞ্চকর ফাইনালে সেনেগাল ১-০ ব্যবধানে স্বাগতিক মরক্কোকে হারিয়ে আফ্রিকান নেশন্স কাপের শিরোপা জিতেছে। গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালের পর রাজধানী রাবাতের প্রিন্স মৌলাই আবদেল্লাহ স্টেডিয়াম থেকে চরম হতাশায় বেরিয়ে যান মরক্কোর সমর্থকরা।
ঠান্ডা ও বৃষ্টিভেজা রাতে চূড়ান্ত বাঁশি বাজার আগেই ‘এ্যাটলাস লায়ন্স’-এর অনেক সমর্থক গ্যালারি ছাড়তে শুরু করেন।
ফাইনাল শেষে ৩০ বছর বয়সী ইসমাইল কোরাজ বলেন, “২০০৪ সালে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে আমরা কেঁদেছিলাম, আর আজ রাতেও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হলো। এটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন।’’
রাবাতের কেন্দ্রস্থলে মরক্কোর পতাকায় সাজানো একটি ক্যাফেতেও এই হার ছিল বড় ধাক্কার। তবু ৩২ বছর বয়সী ফুটবল ভক্ত লাইলা বুরেজমা বলেন, “মরক্কো মাথা উঁচু করেই হেরেছে। এই পরাজয় আমাদের তিক্ততা দিয়েছে, কিন্তু আমাদের খেলোয়াড়রা সর্বস্ব দিয়েছে।”
মরক্কোর ফুটবলের আরেক ভক্ত ওমাইমা বুকরাব বলেন, “পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে মরক্কো দারুণ ফুটবল খেলেছে। খেলোয়াড়রা অসাধারণ ছিল। আমরা তাদের কুর্নিশ জানাই এবং তাদের নিয়ে গর্বিত।”
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে একটি বিতর্কিত পেনাল্টি পেয়ে উত্তর আফ্রিকার দলটি ৫০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ট্রফি জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে সেনেগালের গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডি সহজেই ব্রাহিম দিয়াসের দুঃসাহসী শট ঠেকিয়ে দেন। পেনাল্টির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে গেলে ম্যাচ প্রায় ২০ মিনিটের জন্য বন্ধ ছিল।
অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে পেপ গোয়ের গোলে এগিয়ে যায় সেনেগাল। ম্যাচের একমাত্র গোলটি স্বাগতিক দর্শকদের হতবাক করে দেয়। আর এতেই ১৯৭৬ সালের পর প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙে যায়।
ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের বাইরে জড়ো হয়ে উল্লাস করেন সেনেগালের সমর্থকরা। ২০২১ সালের পর এটি তাদের দ্বিতীয় শিরোপা।
৪২ বছর বয়সী সেনেগালের সমর্থক আবদুল বলেন, “আমরা জিতেছি, কিন্তু মরক্কো সবসময় আমাদের সঙ্গেই আছে, তাই বলা যায় আজ দুটি আফ্রিকান দেশই জয়ী হয়েছে”।
৬৬,৫২৬ দর্শকের ভিড়ে মরক্কোর সমর্থকদের তুলনায় সেনেগালের সমর্থক সংখ্যা ছিল কম, তবুও তাদের উল্লাস ও আনন্দ স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে।
আরেক সেনেগালিজ সমর্থক সালিম বম “আজ সেনেগাল জিতেছে। আগামীকাল মরক্কো জিতবে। ওরা আমাদের ভাই। এখানে আমাদের দারুণভাবে স্বাগত জানিয়েছে।’’
কঙ্গোলিজ রেফারি জিন-জ্যাক এনদালা ম্যাচের শেষদিকে পেনাল্টি দিলে প্রতিবাদে সেনেগালের অধিকাংশ খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে যান। স্টেডিয়ামের বিপরীত প্রান্তে কিছু সেনেগালিজ সমর্থক চেয়ার ও অন্যান্য বস্তু ছুঁড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও মাঠে ঢোকার চেষ্টা করেন।
শেষ পর্যন্ত পুলিশের বড় ব্যারিকেডে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। খেলা পুনরায় শুরু হলে পেনাল্টি সেভ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ক্ষোভ রূপ নেয় আনন্দ ও বিস্ময়ে।