বাসস
  ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৭

সাক্ষাৎকারের আগেই ভিসা বন্ড পরিশোধ না করার বিষয়ে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫ (বাসস): ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশি ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের আগেই কোনো ধরনের ভিসা বন্ড পরিশোধ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে। 

দূতাবাস জানিয়েছে, আগাম কোনো অর্থ পরিশোধ করলে ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না, বরং এতে প্রতারণা বা জালিয়াতির শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

আজ সোমবার দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, আগাম বন্ড পরিশোধ করলে ভিসা নিশ্চিত হয় না এবং এ ধরনের সেবা দেওয়ার নামে তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটগুলো প্রতারণামূলক হতে পারে।

দূতাবাস জানায়, সাক্ষাৎকারের আগে পরিশোধ করা কোনো অর্থ ফেরতযোগ্য নয়। তবে ভিসার সব শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করলে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ভিসা বন্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। এমন সময় এ সতর্কতা জারি করা হলো। 

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বি১ (ব্যবসায়িক) ও বি২ (পর্যটন) ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে। তবে এই শর্ত ২১ জানুয়ারির আগে ইস্যু করা বৈধ বি১ ও বি২ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশকে ভিসা বন্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। রয়টার্স ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানায়।

ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারী কোনো ব্যক্তি যদি বি১ বা বি২ ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন করতে তাকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার বন্ড বা জামানত জমা দিতে হবে। 

পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, আবেদনকারীদের অবশ্যই বন্ডের শর্তাবলিতে সম্মত হতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অফিসিয়াল অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Pay.gov এর মাধ্যমে অর্থ প্রদান করতে হবে। 

বর্ধিত এই তালিকায় এখন মোট ৩৮টি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যার অধিকাংশই আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশ। 

মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটন বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ইস্যু করা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান (ওভারস্টে) ঠেকাতেই এই বন্ড ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।