BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ০২ জুন ২০২২, ১৮:৪৭

রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে

॥ মো. আয়নাল হক।॥
রাজশাহী, ২ জুন, ২০২২ (বাসস) : নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে যুবকদের কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত হতে চলেছে। বর্তমানে প্রায় ৪০০ যুবক সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, বিখ্যাত কোম্পানির সাইট রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিদেশ থেকে চাহিদা অনুযায়ী ফাইলের কাজ, পার্কে কাজের পরিবেশ তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
ফ্লিট বাংলাদেশে কর্মরত আফরোজা আরবি তুসি বলেন, রাজশাহীতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসবাস করে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পেয়েছেন। বুধবার এখানে বাসসের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমি আমার ক্যারিয়ার গড়ার বিষয় নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম এবং ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ঢাকায় যাওয়ার কথা ভারতাম।"তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্কটি তার জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে, কারণ এটি আইটি সেক্টরে আগ্রহী অনেক যুবকের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
'টেক রাজশাহী' মোবাইল গেমস ও অন্যান্য সফটওয়্যার সংক্রান্ত সেবা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে। সংস্থার প্রধান নির্বাহী মাহফুজুর রহমান জানান, তাদের ১৪২ জন কর্মী রয়েছে এবং তাদের মধ্যে ২৮ জন হাইটেক পার্কে কাজ করছেন। তিনি বলেন, পার্কের অবস্থানের পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তার প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়িয়েছে।
‘এমডি ইনফো'-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল মোর্শেদ জানান, জয় সিলিকন টাওয়ার এবং শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন বিল্ডিংয়ে তারা জায়গা পেয়েছেন। তাদের প্রায় এক হাজার কর্মী রয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১৫০ জন অফিসে কাজ করছেন, কারণ তাদের পঁচানব্বই শতাংশ কর্মীই  রাজশাহীর বাসিন্দা।
হাইটেক পার্কের উপ-পরিচালক প্রকৌশলী মাহফুজুল কবির বলেন, পার্কে দুটি অংশ-শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন বিল্ডিং এবং সজীব ওয়াজেদ জয় সিলিকন টাওয়ার রয়েছে। তিনি বলেন,  শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেশন অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের নির্মাণ কাজ গত বছর শেষ হয়েছে, জয় সিলিকন টাওয়ার এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন,  শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন বিল্ডিং-এ এ পর্যন্ত দশটি কোম্পানি এবং জয় সিলিকন টাওয়ারে সাতটি কোম্পানিকে স্থান দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, রাজশাহী মহানগর সংলগ্ন নবীনগর এলাকায় প্রায় ৩১ একর জমির ওপর পার্কটি নির্মাণ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্ঞানভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে ৩৩৫.৫১ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি সফলভাবে সমাপ্ত হলে প্রায় ১৪,০০০  পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের মধ্যে রয়েছে ভূমি উন্নয়ন, ২ লাখ ৭০ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি দশ তলা সিলিকন টাওয়ার, সাবস্টেশন ভবন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও ড্রেন, সীমানা প্রাচীর এবং উচ্চ গতির ইন্টারনেট। ৬২,০০০ বর্গফুট আয়তনের আইটি ইনকিউবেশন সেন্টারে একটি শক্তি সাশ্রয়ী অত্যাধুনিক অফিস বিল্ডিয়ে  রয়েছে বহুমুখী প্রশিক্ষণ সুবিধা, উচ্চ মানের স্টার্ট আপ, বৃষ্টির জল সংগ্রহ এবং নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।
"বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই- টেক পার্ক স্থাপন" প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, একটি অডিটোরিয়াম ছাড়াও দেশ-বিদেশে বিনিয়োগকারীদের ভিডিও তথ্যচিত্র দেখানোর জন্য একটি সিনেপ্লেক্সের ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, সিলিকন টাওয়ারে দুটি বেসমেন্ট পার্কিং ফ্লোর, উচ্চমানের প্রশিক্ষণ,  সেমিনার এবং কনফারেন্স রুম, ভাড়াযোগ্য অফিস স্পেস এবং লাউঞ্জ এবং বিনোদন এলাকা সহ বহুমুখী সুবিধা থাকবে। দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য সব ধরনের ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, পার্কটি রাজশাহীতে একটি জ্ঞানভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টিতে অনেক অবদান রাখবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি নতুন তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে এটি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়