বাসস
  ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:০০

ক্ষমতায় অহংকারীর পরিণতি করুণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান তা প্রমাণ করেছে : গোলাম পরওয়ার

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: বাসস

নারায়ণগঞ্জ, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, অসীম ক্ষমতায় অহংকারী হয়ে ভিন্ন মতকে দমন করা যাবে না। অহংকারীর কি করুণ পরিনতি হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান তা প্রমাণ করেছে; এ বিষয়টি থেকে সব রাজনৈতিক দলের শিক্ষা নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেত্রীকে যেভাবে কাপুরুষের মতো পালিয়ে যেতে হয়েছে, এখান থেকে সবার শেখার আছে। ক্ষমতা ও শক্তির দম্ভে  বেপরোয়া হওয়া যাবে না। ক্ষমতায় আসলে কখনও এত দাম্ভিক হতে হয় না।  

আজ বুধবার দুপুরে জেলার শিমরাইল এলাকার ট্রাকস্ট্যান্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশে নানা কারণে আলোচিত ও সমালোচিত। এই এলাকার সাইনবোর্ডে এক সাহসী মানব লিখে রেখেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের প্রবেশ নিষেধ। আমি যাওয়া আসার সময় বোর্ডে এটা দেখতাম। আজও আমি আসার সময় ভাবছিলাম, আল্লাহর কী রহমত। মানুষের কোনো ইচ্ছা পূরণ হয় না যতক্ষণ আল্লাহ না চায়। আজ আল্লাহ জামায়াতকে ঢোকার ব্যাবস্থা করে দিয়ে তাকে বের করে দিয়েছে। তার নেত্রীও এভাবে ভাবতেন। কাপুরুষের মত তাকেও পালিয়ে যেতে হয়েছে।

গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনে এখানে অনেকে শহীদ হয়েছেন এই নারায়ণগঞ্জে। অনেকে আহত হয়ে ক্ষতচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন। অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তারা ইতিহাস রচনা করেছেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছর যারা এই দেশ শাসন করেছে, তাদের এখন লালকার্ড দেখাতে হবে। তারা নৈতিকতা, দেশপ্রেম, সততায় আর মানবিকতায় ব্যর্থতা দেখিয়েছে। এ দেশকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি শাসন করেছে। এই তিন দলকে যদি প্রশ্ন করা হয়, রাষ্টক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দুর্নীতি, দলীয়করণ, আর নির্যাতন করে নাই; তখন তারা উত্তর দিতে পারবে না। এর অন্যতম কারণ প্রত্যেকটি দল শোষণ করেছে। তাই সেই ফেলু পার্টিদের নিয়ে আর দেশ পরিচালনা চলবে না।

তিনি আরও বলেছেন,  বর্তমানে মানুষকে বলে বেড়ানো হচ্ছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি পশ্চিম পাকিস্তান হয়ে যাবে। আবার কেউ কেউ ভোট দিতে গেলে ঠ্যাং ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম। আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার সিসি ক্যামেরার অর্থ বরাদ্দ করেছেন। বডি ক্যামেরা থাকবে। ফলে মাস্তান পার্টিরা কেউ কিছু করতে গেলেই ধরা খেয়ে যাবে। এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামী আমির আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে এবং জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুন্নার সঞ্চালনায় জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াত সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি মো. হাফিজুর রহমান। এছাড়া জেলার  ৫টি সংসদীয় আসনের ১১ জোটের মনোনীত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।