শিরোনাম

ঢাকা, ৪ জানুয়ারি,২০২৬ (বাসস): ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের(ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্যের এক বিরল প্রতীক। যিনি গৃহিণী থেকে রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়ে বহুমাত্রিক অবদানের মাধ্যমে এ দেশের মানুষকে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা স্মরণে আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক শোকসভায় সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য এ কথা বলেন।
অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, মরহুমার জানাজায় দেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, তার ঐক্য সৃষ্টির সক্ষমতার ঐতিহাসিক প্রমাণ।
উপাচার্য আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে একাডেমিক গবেষণা, সাহিত্যকর্ম ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের এক অনন্য রাষ্ট্রনায়ক ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার, সাংবিধানিক শাসন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি আপসহীন নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে তার অবদান এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং তার আদর্শকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে।
শোকসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। যে কারণেই তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, বেগম জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, গণতন্ত্রের অঙ্গীকারে অবিচল এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরলস সংগ্রামী একজন রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও শিক্ষার উন্নয়ন হয়েছে। কঠোর দেশপ্রেম ও নৈতিক দৃঢ়তার কারণে নিপীড়ন ও বাধার মুখেও তিনি আপস করেননি এবং দেশের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের জননী এবং দেশপ্রেমের অনন্য প্রতীক। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য এবং গণতন্ত্রের জন্য অমর অবদান রেখেছেন। এসময় অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার ‘বেগম খালেদা জিয়া মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড ফর একাডেমিক এক্সিলেন্স’ চালু করার প্রস্তাব করেন।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরা, ভিশন-২০৩০ প্রণয়ন এবং সংকটকালে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ছিল অসামান্য। দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাকে বারবার নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে, তবে তিনি কখনো আপস করেননি।
ঢাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বিশেষ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশের নারীরা কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতার স্বীকৃতি পেয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের অঙ্গীকারে আপসহীন নেত্রী। একজন গৃহিনী থেকে তিনি ক্রমেই দেশনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। কঠোর দেশপ্রেম ও নৈতিক দৃঢ়তার কারণে নিপীড়ন ও শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও তিনি দেশের জনগণের জন্য অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্রের প্রতীক। যিনি আধিপত্যবাদ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সফল নেতৃত্ব দিয়ে ইতিহাসে অনন্য স্থান অর্জন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে সুসংগঠিত করে জনগণের ভোটাধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আজীবন সংগ্রাম করা এই নেত্রীর প্রয়াণে দেশ এক প্রজ্ঞাবান অভিভাবককে হারিয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সততা, দেশপ্রেম ও মানবিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এ দেশের মানুষের হৃদয়ে অনন্য স্থান করে নিয়েছেন।
কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া শোকসভায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
এরপর ‘শিক্ষা ও জাতীয় ঐক্যে খালেদা জিয়া’ শীর্ষক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। শোকসভা সঞ্চালন করেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
এর আগে, মিলনায়তনের বাইরে স্থাপিত শোকবই উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বাক্ষরের জন্য শোকবই আগামী তিনদিন আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে রাখা থাকবে।
শোকসভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাবি বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস এ ইসলাম, কলা অনুষদের সাবেক ডিন ও সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. জেড এন তাহমিদা বেগম, ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস প্রমুখ।