বাসস
  ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৯

ময়মনসিংহে মৎস্যখাতে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধে মতবিনিময় সভা

ছবি: বাসস

ময়মনসিংহ, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় মৎস্যখাতে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধ এবং নিরাপদ মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে শহরের বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় মৎস্য কর্মকর্তা, মাছ চাষি, খামার ব্যবস্থাপক, হ্যাচারি মালিক, মৎস্য খাদ্য উৎপাদনকারীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।

মৎস্য অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রউফ।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. খালেদ কনক।

এছাড়াও মৎস্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, মাছ চাষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার তাৎক্ষণিকভাবে কিছু সুফল দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বক্তারা আরো বলেন, মাছের রোগ প্রতিরোধ বা দ্রুত বৃদ্ধি এবং বেশি মুনাফার আশায় অনেক চাষি মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে বদ্ধ জলাশয়ে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে শুধু মাছ নয়, মানুষের শরীরেও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ছে।

মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, অনেক ক্ষেত্রেই মৎস্য বিভাগের পরামর্শ ছাড়াই মাছ চাষিরা পুকুর বা ঘেরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করছেন। রোগ সারানো কিংবা রোগ প্রতিরোধ— এই দুই উদ্দেশ্যেই তারা এসব ওষুধ ব্যবহার করেন। তবে, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে নতুন ও অনভিজ্ঞ মাছ চাষিদের মধ্যে।

সভায় জানানো হয়, ওষুধ কোম্পানির কিছু প্রতিনিধি এবং স্থানীয় ফিড ব্যবসায়ীরা মাছ চাষিদের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে উৎসাহিত করেন।

মাছ চাষি শামসুল আলম বাদল বলেন, ‘নতুন ও অনভিজ্ঞ চাষিরা না বুঝে কোম্পানির লোকদের প্রলোভনে পড়ে মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছেন। নির্দিষ্ট সময় পর এসব ওষুধ অপসারণ না করলে মাছ ও পরিবেশ দুটিরই ক্ষতি হয়।’

সভায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক জসিম উদ্দিন, ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক সাহেদ রেজা, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম, মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক রণজিৎ কুমার পাল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৎস্য অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক রিপন কুমার পাল এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ময়মনসিংহ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরাফাত উদ্দিন আহমেদ।

সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা এবং অর্ধ শতাধিক মাছ চাষি উপস্থিত ছিলেন।