শিরোনাম

মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন
ফেনী, ১৩ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): পবিত্র ঈদুল ফিতর যতই ঘনিয়ে আসছে ফেনী শহরের দোকানপাট, মার্কেট, বিপনী বিতানে মানুষের ভিড় বাড়ছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। মানুষের চাহিদা ও সাধ্যের মধ্যে যে যার মতো ফুটপাত থেকে নামি দামী ব্রান্ডের শো-রুমে ছুটছে। পুরো শহর সেজেছেবর্ণিল আলোকসজ্জায়।
শহরের কলেজ রোডে সর্ববৃহৎ শপিং সেন্টার গার্ডেন সিটি এর পাশেই প্রাচীন মার্কেট শহীদ হোসেন উদ্দিন বিপনী বিতান এবং তৎসংলগ্ন অত্যাধুনিক সাজসজ্জায় গ্রান্ড হক টাওয়ার, জুম্মা শপিং সেন্টার, তমিজিয়া শপিং কমপ্লেক্স ও ফেনী সেন্টার।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলা গড়াতেই ভিড় জমাতে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী ক্রেতারা। সন্ধ্যা নামার পর তা আরো বেড়ে যায়। বেশিরভাগই আসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। তাদের কেউ পছন্দের পোশাকটি পেতে দোকান থেকে দোকানে ঘুরে বেড়ান, কেউ আবার কাঙ্খিত জামাটি পেয়ে গেলে দরদাম করেন।
গ্রান্ড হক টাওয়ারে ঢুকতেই দোকানগুলোতে চোখে পড়ে সারি সারি ঝুলানো উজ্জ্বল রঙের শাড়ি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা ও পাঞ্জাবি। দোকানে সাজানো এসব নতুন পোশাক যেন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। কোথাও আবার দোকানিরা ডেকে ডেকে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। সন্ধ্যা নামার পর এই পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আলোয় আলোকিত দোকান, মানুষের কোলাহল, দরদামের তর্ক আর শিশুদের উচ্ছ্বাস-সব মিলিয়ে পুরো মার্কেটে উৎসবের আবহ। নিজেদের পছন্দের পোশাক কিনতে পারায় খুশি ক্রেতারা, বিক্রি বাড়ায় খুশি বিক্রেতারাও। মার্কেটটিতে নারী ক্রেতাদের ভীড় সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
মার্কেটে ঘুরে দেখা যায়, নারী ক্রেতারা নিজেদের পছন্দের পোশাক ক্রয় করতেছেন। অনেকে বিক্রেতাদের সাথে দর কষাকষি কসছেন। অনেকে আবার একদরের দোকান থেকে নিচ্ছেন।শাড়ি, থ্রি-পিস, গাউন, লেহেঙ্গা ও হিজাবের পাশাপাশি নিচ্ছেন জুতাও।
ছেলেদের দোকানগুলোতেও ছিল ভীড়।তৃতীয় তলার ইহরামের স্বত্বাধিকারী নুরুল আবছার রিয়াদ বলেন, ‘প্রথম রমজান থেকে কিছুটা কম হলেও ১৫ রমজানের পর বিক্রি বেড়েছে। এখন মার্কেট পুরোদমে জমে উঠেছে। গতবছরের তুলনায় এ বছর ব্যবসা-বাণিজ্য আলহামদুলিল্লাহ ভালো হচ্ছে।’
মায়াবীর স্বত্তাধিকারী শিমুল মজুমদার বাসস’কে বলেছেন,‘আমাদের মায়াবী আজ ১৮ বছর ধরে আছে। আমাদের একটা ঐতিহ্য আছে। ফলে ক্রেতা প্রতিবছরেরগুলো আমাদের নিয়মিত আছে। তবে মানুষ বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে কিনতে পারছে না তেমন। এরপরও আসছে। আমাদের বিক্রিও ভালো হচ্ছে।’
হক টাওয়ারের পরিচালক ইমন উল হক বলেন,‘আমাদের গ্র্যান্ড হক টাওয়ার পুরাতন একটি মার্কেট। আধুনিকতা ও এতিহ্যগত দিক থেকে আমরা এগিয়ে আছি। এবারের রমজানে আমরা খুব সাড়া পাচ্ছি। আমাদের এখানে সব ধরনের আইটেম পাওয়া যায়। এ রমজানে অনেক দূর দূরান্ত থেকে লোকজন আসতেছেন। আমাদের এখানে পর্যাপ্ত পার্কিং রয়েছে। ফ্রি পার্কিং করা যায়। এছাড়া আমাদের সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এখানে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই। এখন পর্যন্ত কোন ধরনের বিশৃঙ্খলাও হয়নি।’
এদিকে তরুণ-তরুণীরা বেশি ভীড় করছেন ফেনী গার্ডেন সিটিতে। রাতে মার্কেটটিতে ঘুরে দেখা গেছে,মার্কেটের দ্বিতীয় তলা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত গাদাগাদি করে কেনাকাটা হচ্ছে। প্রতিটি দোকানে ক্রেতাদের ভীড় লক্ষ্যণীয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় নারী ক্রেতা ও চতুর্থ তলায় পুরুষ ক্রেতা সমাগম বেশি। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় শাড়ি, থ্রি-পিস, গাউন, লেহেঙ্গা,হিজাব, বোরকা ও বিভিন্ন ফ্যাশনেবল পোশাকের পাশাপাশি প্রসাধনী দোকানে পছন্দের পণ্য কিনেন ক্রেতারা। গতবারের বিক্রি কিছুটা কম হলেও বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্ট দোকানদাররা। পছন্দের পোশাক পেয়ে খুশি ক্রেতারাও।
মাওয়া হিজাবের বিক্রেতা মো. আশিক বলেছেন, ‘এখানে হিজাবের জন্য আমাদের দোকানটা সেরা। মহিলারা হিজাব কিনতে আসতেছেন। কালার মিলিয়ে বিশেষ করে শাড়ীর সাথে মিলিয়ে অনেকে হিজাব নিচ্ছেন। ভালো বিক্রি হচ্ছে।’
জার্মানি সুজের কাজী হাবিব উল্লাহ বলেছেন, ‘ভালো বিক্রি হচ্ছে। গতবছর থেকে তুলনামূলকভাবে একটু কম। তারপরও যেটা হচ্ছে ভালো হচ্ছে। নিয়মিত ৬০-৮০হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারিক্রয় করতে আসা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘ঈদ বছরে দুইবার আছে। সবাই আনন্দ করতেছে। সবাই কেনাকাটা করতেছে। আমিও পোশাক কিনতে এসেছি। ভালে লাগতেছে।’
শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে আড়ং, সারা, টুয়েলভ, টপ টেন, ইজি, রঙ, টেক্স পয়েন্ট, এম্ব্রেলা, ইনফিনিটি, ফলো ফ্যাশন, বিটু বি ওয়ান, লুবনান, শ্যালো, বেস্ট কালেকশান, নন্দন বুটিক্স, জেন্টেল পার্ক, আর্ট, মনোহরী, সেইলর, ভারগো, রাইর্জসহ নামীদামী ব্রান্ডের শো-রুমেও রাতদিন চলছে কেনাকাটা। এই সড়কে এশিয়া বাজার, এফ রহমান এসি মার্কেট, হোমপ্লাসসহ, গ্রীন টাওয়ার, আজিজ শপিং সেন্টার, সমবায় সুপার মার্কেটেও ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি শো-রুম মার্কেটেই চোখ ধাঁধানো আলোক সজ্জা যে কাউকেই আকর্ষণ করে।
অপরদিকে শহরের ভিতরের বাজারের মার্কেট সমূহেও যেন রাত-দিন একাকার। ক্রেতারা যেমন এক দোকান থেকে অন্য দোকানে পছন্দের পোশাক কিনতে ছুটছে তেমনি বিক্রেতাদেরও দম ফেলার ফুরসত নেই। অন্যদিকে শহরের প্রাণ কেন্দ্রে রাজাঝির দিঘীর পাড় জুড়ে অস্থায়ী দোকান পাটে ছুটছেন নিম্ন আয়ের ক্রেতারা। এখানে জুতা থেকে শুরু করে সব ধরনের পোশাক স্বল্প দামে মিলে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন ফুটপাতে ও মসজিদের আশেপাশে বিক্রি হচ্ছে আতর, টুপি, জায়নামাজসহ বিভিন্ন ঈদ সামগ্রী।
এদিকে শহরের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও ক্রেতা বিক্রেতাদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ রাতদিন কাজ করছে বলে জেলা পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি জানান, ঈদকে সামনে রেখে বিশেষ পুলিশিং চলছে।