শিরোনাম

নেত্রকোণা, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): জেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। এছাড়াও দিবসটি পালনে আলোচনা সভা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আজ শনিবার সকাল ১১টায় জেলা শহরের মোক্তারপাড়ায় অবস্থিত পাবলিক হলে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মে. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম।
সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, “ভাষা যদি হারিয়ে যায়, তাহলে কী হারিয়ে যাবে? বাংলা ভাষা হারিয়ে গেলে আমাদের যে হাজার বছরের ইতিহাস, যা বাংলায় লেখা, আমাদের অজস্র কবিতা, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান, নজরুলের কবিতা ও আমাদের যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা সবকিছু হারিয়ে যাবে। তাই ভাষা সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস টেনে বলেন, “আমি পড়াশোনা করতে গিয়ে দেখলাম অসংখ্য জাতি সময় সময়ে তাদের ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গের মানভূমে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে বাঙালিরা ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ৯বছর দীর্ঘ সংগ্রাম করেছে এবং ৩শ’ কিলোমিটার পদযাত্রা করেছে। ১৯৬১ সালে আসামের বারাক উপত্যকায় অহমিয়া ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে ৬শ’ জন মানুষ জীবন দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় 'আফ্রিকানস' ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে স্কুলের বাচ্চাদের ওপর গুলি চালিয়ে ৬শ’ মানুষকে হত্যা করা হয়। এমনকি কুর্দিস্তানে কুর্দি ভাষার ওপর বারবার আগ্রাসন চালানো হয়েছে। সেখানে মাতৃভাষায় কথা বলার জন্য বন্দিদের জিহ্বা কেটে দেওয়া হয়েছে, কানে সিসা ঢেলে দেওয়া হয়েছে এবং ২০১০ সালেও মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়ার জন্য একজন শিক্ষককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।”
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “আমরা সৌভাগ্যবান জাতি যে আমাদের ১৯৫২ সালের সংগ্রামকে সারা পৃথিবী স্বীকার করে নিয়েছে। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ১৭ নভেম্বর তাদের প্যারিস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকার করে নেয় এবং ২০০০ সাল থেকে আমরা এই দিনটিকে পালন করছি।
তিনি বলেন, এ আন্দোলন বাঙালির শুধু স্বাধীনতার জন্য নয়, এ আন্দোলন ছিল আমাদের স্বাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন। ২০২৪ সালে আবারও বাংলাদেশের মুক্তমনা মানুষ জীবন দিয়েছে এবং সর্বশেষ ১২ই ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ইনক্লুসিভ ইলেকশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করল। আমাদের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “তৎকালীন সরকার প্রধানই চেয়েছিল আমাদের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে, কিন্তু বাংলার দামাল ছেলেরা তা হতে দেয়নি। বাংলা শুধু ভাষাই না, এটা আমাদের অস্তিত্ব। সংস্কৃতির ওপর আঘাত ছিল পাকিস্তানি শাসকশ্রেণীর একটি সূক্ষ্ম কৌশল, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রুখে দিয়েছিল।”
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সজীব সরকার রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শফিকুল কাদের সুজা, নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম, খেলাফত আন্দোলন নেত্রকোণা শাখার সদস্য সচিব গাজী আব্দুর রহিম এবং জিপি অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হক।
সভা শেষে ভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।