শিরোনাম

সাতক্ষীরা, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও উপকূলীয় কৃষিকে টেকসই করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় জ্ঞান বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশের আয়োজনে এবং এইচ.এস.বি.সি ব্যাংকের সহযোগিতায় ও সূর্যমণি প্রকল্পের আওতায় আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) খামারবাড়ি, সাতক্ষীরার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম।
কর্মশালায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতির প্রসার, সূর্যমুখী উৎপাদন বৃদ্ধি, পতিত জমির কার্যকর ব্যবহারসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
সূর্যমণি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. শাহাবুদ্দিন শিহাবের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, খামারবাড়ি সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), সাতক্ষীরা উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কামরুজ্জামান।
স্বাগত বক্তব্য এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, কেয়ার বাংলাদেশের হিউম্যানিটারিয়ান অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ফিউচারস প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আবিদ উল কবির।
অন্যান্যের আরো বক্তব্য দেন, কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম এনামুল ইসলাম, তালা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. আমিনুর ইসলাম, কলারোয়া উপজেলার কৃষক মনোয়ারা বেগমসহ অন্যান্যরা।
মো. আবিদ উল কবির বলেন, সূর্যমণি প্রকল্পের লক্ষ্য সাতক্ষীরার কলারোয়া ও তালা উপজেলার প্রায় ১০০০-১২০০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. শাহাবুদ্দিন শিহাব বলেন, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এইচএসবিসি ব্যাংকের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের সহায়তায় সূর্যমণি প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫৩৫টি কৃষক পরিবার সরাসরি উপকৃত হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে কলারোয়া ও তালা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১ হাজার ৩৩০ বিঘা পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষে উন্নত হাইব্রিড বীজ, জৈব ও রাসায়নিক সার এবং কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৬০০ পরিবারকে নিরাপদ ও পুষ্টিকর সবজি চাষের উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে।
খামারবাড়ি সাতক্ষীরার উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং কৃষক লাভবান হবেন।
প্রধান অতিথি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কালারোয়া ও তালা উপজেলায় বৃহৎ পরিসরে সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণ হলে কৃষকের আর্থিক উন্নয়ন ঘটবে এবং দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। তিনি এসময় এই সূর্যমনি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আহবান জানান।