বাসস
  ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৫

শীতকালে জমজমাট পদ্মা-মেঘনা বিধৌত শরীয়তপুর

ছবি: বাসস

মজিবুর রহমান

শরীয়তপুর, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : শরীয়তপুরে শীতযাপনের ইতিহাস ঐতিহ্য মূলত গ্রাম বাংলার আবহমান সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। এখানে শীতকাল মানেই খেজুরের রস, পিঠাপুলি, ফিরনি-পায়েসসহ নানা খাবার আরও অনুষ্ঠানের আয়োজন। শহুরে জীবনে অভ্যস্তরাও শীতকালে গ্রামে ফিরে আসেন শীত উপভোগের জন্য। 

উৎসব উচ্ছ্বাসে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বাড়ি ঘুরে সময় কাটানোর উপযুক্ত সময় শীতকাল। যদিও কালের আবর্তে পরিস্থিতি কিছুটা বদলে গেছে। এরপরেও শরীয়তপুরে শীতকালের আলাদা গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে।

শীত এলেই শরীয়তপুরের গ্রামে-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায়, ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর ধুম পড়ে যায়। ভাপা পিঠা, সাজের পিঠা, চিতই পিঠা, বিবিখানা পিঠা, সেমাই পিঠা ও কাটা পিঠা এই অঞ্চলের ইতিহাস ঐতিহ্যের অংশ। এর সঙ্গে ফিরনি-পায়েস তো রয়েছেই। এসব কিছুর সঙ্গে খেজুরের রস এবং খেজুরের গুড়ের সম্পর্ক বিদ্যমান। খেজুরের রস আর খেজুরের গুড় ছাড়া শরীয়তপুরে শীতযাপন অপূর্ণই থেকে যায়।

শীত ঋতুকে শরীয়তপুর অঞ্চলের মানুষ যেভাবে উপভোগ করে অন্য সব ঋতুর বেলায় তা হয়ে ওঠে না। নদীবেষ্টিত হওয়ার কারণে বছরের ৬ মাস জেলার অধিকাংশ অঞ্চল জলমগ্ন থাকে। শীত এলে পানি কমে  যায়, আর তখনই শুরু হয় জীবনের নানা আয়োজন। প্রতিবছর শীতের সময় শহরে অবস্থানকারী শরীয়তপুরের লোকজন স্বপরিবারে গ্রামে ফেরেন। এ সময়টা শহুরে লোকদের গ্রামে বেড়ানোর মোক্ষম সময়। কারণ স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকে। নানি-দাদিরা মুড়ি মোয়া বানিয়ে রাখেন নাতি-নাতনিদের জন্য।

শীতের সময় এখানে শুরু হয় নানা ধরনের খেলাধুলা, সাহিত্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাড়ার ছেলে মেয়েরা দিগন্ত জোড়া মাঠে দল বেঁধে খেলায় খেলায় বেলা কাটিয়ে দেয়। আবহমান বাংলার গোল্লাছুট, দারিয়া বাঁধা, কানামাছি, বৌচিসহ আধুনিক সময়ের ক্রিকেট ব্যাডমিন্টন ,ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন খেলার ব্যাপক প্রচলন শরীয়তপুর জেলায়। শীতে এখানে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও জমজমাট হয়ে ওঠে।

শীতের সময় শরীয়তপুরের দিগন্ত জোড়া প্রান্তর নানারকম শাকসবজি, ফুল ফসলে ভরে ওঠে। বিশেষ করে এখানকার মটরশুটি, কলুই শাকের স্বাদ অনন্য। এ স্বাদ নিতে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে লোকজন ছুটে আসে। এখানকার পুকুর-ডোবার কৈ, শিং, মাগুর শোল, গজার মাছের স্বাদ বছর জুড়ে মুখে লেগে থাকে। শীতের সময় এসব মাছে হাট বাজার ভরে যায়। এর সঙ্গে মাছের রাজা ইলিশের প্রাচুর্যতো রয়েছেই।

শরীয়তপুর অঞ্চলের মানুষ ব্যাপক ধর্মভীরু হওয়ার ফলে শীতের সময় এখানে প্রতিটি পাড়ায় - মহল্লায় ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এখানে শীতের সময় মাজারে ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। শীতের সময় এখানে বিয়ে-শাদী, বৌভাত, সুন্নতে খাৎনা, কুলখানিসহ বিভিন্ন সামাজিক আচার অনুষ্ঠান যথাযোগ্য ও মর্যাদায় বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় উদযাপিত হয়।

শীত এলেই শরীয়তপুরের মানুষ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শীতের আমেজে সব সময় শরীয়তপুর মুখরিত থাকে।