বাসস
  ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:০৫
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৭

বেগম খালেদা জিয়া সাড়ে ৪ দশকের এক অনবদ্য রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান : রিজভী

রুহুল কবির রিজভী শনিবার সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সদ্যপ্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাড়ে চার দশকের এক অনবদ্য রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। 

তিনি বলেন, ‘তিনি গোটা জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন, প্রেরণায় উদ্দীপ্ত করেছেন এবং জাগিয়েছেন। দেশের সকল রাজনীতিবিদের পথপ্রদর্শক হিসেবে তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন।’

রিজভী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই গণতন্ত্র সমুন্নত থাকবে এবং মায়ের দেখানো পথ ধরেই তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

ছবি: সংগৃহীত

রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও নৈতিকতা অত্যন্ত উঁচু স্তরের। তিনি নিজের ওপর হওয়া সব জুলুম-অত্যাচার সহ্য করে দেশের পতাকাকে উড্ডীন রেখেছিলেন। সেই প্রেরণা ও দৃষ্টান্ত অনুসরণ করেই জাতীয়তাবাদী মহিলা দলসহ বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ-সংগঠন ও জাতীয়তাবাদী শক্তি সামনে এগিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার দেখানো পথে চললেই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষা করা সম্ভব হবে। তাঁর সুযোগ্য সন্তান ও জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান সেই সংগ্রামের পতাকা হাতে নিয়েছেন। তার মায়ের প্রদর্শিত পথ ধরে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাবেন এই দেশকে নতুন সম্ভাবনার দিকে, নতুন দিগন্তের দিকে।

রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া যে জন্য ৪৫-৪৬ বছরের নিরন্তর লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে গেছেন সেই লক্ষ্য অর্জনের দিকেই আমরা এগিয়ে যাব।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ও জ্যেষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে তারা মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

রিজভী অভিযোগ করে জানান, বেগম খালেদা জিয়া হেঁটে কারাগারে গেলেও সেখান থেকে বের হয়েছেন মুমূর্ষু অবস্থায়। কেন তাঁর এমন অবস্থা হলো, এ প্রশ্ন এখন গোটা জাতির। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার কারাগারে তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও ঠিকমতো খাবার-দাবার দেয়নি। তাঁকে তিলে তিলে পৃথিবী থেকে শেষ করে দেওয়ার নানা চক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু কোনো হুমকির মুখেই তাকে দেশের মাটি থেকে সরানো যায়নি; তাঁর অটুট মনোবল, আত্ম সংযম, দৃঢ় প্রত্যয় ও সাহস ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

বিগত কয়েক দিনের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গোটা জাতি আজ শোকাতুর। গত পরশু তাঁর জানাজায় মানুষের যে অভূতপূর্ব জনস্রোত দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে আল্লাহ জনগণের নেত্রী, গণতন্ত্রের নেত্রী ও মানব কল্যাণের নেত্রীকে কতটা মহিমান্বিত করেছেন। দেশের ইতিহাসে এর চেয়ে বড় জানাজা আর হয়নি। দেশের আপামর জনগণ চোখের পানি ফেলেছে, তাঁর জন্য দোয়া করেছে। এটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে নানা নোংরা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করলেও তিনি কখনো প্রতিহিংসামূলক আচরণ বা কোন বাজে আচরণ করেননি। কখনো সৌজন্যবোধ হারাননি। তিনি প্রমাণ করেছেন যারা কুরুচিপূর্ণ কথা বলে তারা জনগণ থেকে ধিকৃত হয়। আর যারা সৌজন্যবোধ প্রিয়, যারা হাজার আক্রমণের মুখেও, হাজার বাজে কথা বলার পরেও একটি মাত্র খারাপ শব্দ, বাজে শব্দ উচ্চারণ করেন না তাকেই আল্লাহ মহিমান্বিত করেন। দেশের সকল রাজনীতিবিদের কাছে এটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।’

রিজভী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু কখনো অন্যায়ের কাছে আপস করেননি। তার দেখানো পথেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে বলে জনগণ বিশ্বাস করে।’

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা আরও বলেন, খালেদা জিয়ার আদর্শে বিএনপি আজ আরও শক্তিশালী। তার দেখানো পথ ধরে এগিয়ে গেলেই দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জাতীয় পতাকার সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে পারবো।