শিরোনাম

ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘অপপ্রচার চালিয়ে বিএনপিকে মাথা নত করানো যাবে না।’
তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির শিকড় এতো গভীরে যে অপপ্রচার দিয়ে একে ঢেকে রাখা যাবে না। এই শক্তি সোজা মেরুদণ্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় শিল্পকলা চিত্রশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) নির্মিত নির্বাচনী প্রচারণা সঙ্গীত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, কুৎসা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, গীতিকার, অভিনয়শিল্পী ও সুরকারদেরই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। তাদের সুললিত ধ্বনি ও শক্তিশালী শব্দ দিয়েই সত্য, ন্যায় ও ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এখন আমাদের সামনে প্রধান সংগ্রাম হলো নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সংগ্রামের মতো করে বিজয়ে পরিণত করতে হবে। চারদিকে চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও মিথ্যাচার চলছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘প্রপাগান্ডা বট’ ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে চরিত্রহনন ও অপপ্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো মূলত দেশের প্রকৃত সুরকে তুলে ধরে। বিশেষ সময় ও পরিস্থিতিকে সামনে রেখে এসব আয়োজন হয়। আন্দোলনের সময় মৌসুমীদের কণ্ঠে গাওয়া ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’ গানটি শুধু বাংলাদেশেই নয়, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দেশের ভয়াবহ দুঃশাসন ও আতঙ্কের সময়ে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, কণ্ঠশিল্পী ও গীতিকাররা তাদের সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষকে প্রেরণা দিয়েছেন। নিপীড়নের মুখেও তারা জনগণকে পিছু হটতে দেননি। এটাই সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংস্কৃতিমনা মানুষদের অসামান্য অবদান।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, সংস্কৃতি একটি দেশের সমগ্র মানবগোষ্ঠী ও জাতিগোষ্ঠীকে প্রভাবিত ও পরিচালিত করার ক্ষমতা রাখে। এমন শক্তিও এর আছে যে, দুঃস্বপ্নের মধ্যেও মানুষ হাসতে হাসতে জীবন দিতে প্রস্তুত হয়। গান, কবিতা কিংবা অভিনয়ের মতো নানা মাধ্যম দিয়েই এই প্রেরণা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরাই নান্দনিক দর্শন ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছেন তাদের সৃষ্টির মাধ্যমে। যার ফলে আজ জনগণের হৃদয়ের গভীরে ধানের শীষ হেমন্তের বাতাসে দুলছে। এই দর্শনকে চিনেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আর সেটিকে মানুষের মনে গেঁথে দিতে সহায়তা করেছেন মনিরুজ্জামান মনির, কবি আল মাহমুদ, শাহনাজ রহমতুল্লাহসহ বহু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
রিজভী আরও বলেন, সাংস্কৃতিক সান্নিধ্য মানুষের রুচি, ভাষা ও মানসিকতার পরিবর্তন ঘটায়। যে সামাজিক অবস্থান থেকেই মানুষ আসুক না কেন, সংস্কৃতি তাকে উন্নত রুচিসম্পন্ন মানুষে পরিণত করতে সক্ষম।
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খানের সভাপতিত্বে ও জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।