
ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, আজ বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে; ভোটগ্রহণ সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল বলে ২০১৪, ১৮ ও ২৪ সালের নির্বাচনে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতি—সবকিছুকেই ধ্বংস করেছিল তারা।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের ফলে যে সরকার গঠিত হয়েছে—সেই অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি অগ্রাধিকার ছিল। সেগুলো হলো বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের মানুষ গভীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষায় ছিলেন এবং তারা অংশগ্রহণ করেছেন। যারা শহরাঞ্চলে ছিলেন, তারাও দলে দলে গ্রামে গিয়ে সুন্দরভাবে ভোট দিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আজ বিকেল ৫টায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আবদুল হালিম, এনসিপির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন, এবি পার্টির নেতা আলতাফ হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইউসুফ আলী, দপ্তর সম্পাদক মো. মিরাজ খান, খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু ও এলডিপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন গণনা চলছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কমিটমেন্ট ছিল। তারা কতটুকু তা রক্ষা করতে পেরেছে—দেশবাসী সেটি বিবেচনা করবে। সকাল থেকে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখেছি।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, আমরা সাড়ে ৫২ হাজারেরও কিছু বেশি কেন্দ্রের ফলাফল পাব। একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। পোস্টাল ভোট, গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা হবে। আমরা ও দেশবাসী গভীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি এই নির্বাচনে সবার আন্তরিকতা ছিল; সবাই চেষ্টা করেছেন। ফলে বাংলাদেশে একটি অনন্য ও সাধারণ নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও ছিল।
জামায়াতের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে খুব বড় আকারের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে শরীয়তপুর-২, কুমিল্লা-৮ ও পটুয়াখালী-১ আসনসহ কিছু কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কিছু স্থানে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং নির্বাচনী কাজে জড়িতদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে জানিয়েছি—তারা চেষ্টা করেছেন। সব মিলিয়ে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, সচেতন জনগোষ্ঠী সব ধরনের সন্ত্রাস ও চক্রান্ত রুখে দিতে পারে। বাংলাদেশের মানুষ সেটি প্রমাণ করেছে।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, গতকাল থেকে বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া ট্রায়াল দেখেছি। অনেক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছিল। সবকিছুকে ব্যর্থ প্রমাণ করে দিয়ে সাধারণ মানুষের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও নির্বাচনকে অর্থবহ করার ক্ষেত্রে দেশবাসীর চমৎকার অংশগ্রহণ ছিল।
তিনি বলেন, নির্বাচনের ভোট গণনা ও ফলাফল যাতে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে হয়, আমরা সেটি পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের ও ১১ দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করব। কেন্দ্রীয় অফিসেও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। সাংগঠনিক প্রক্রিয়া মেনে ১১ দলের পক্ষ থেকে সময়ে সময়ে ২৯৯ আসনের ফলাফল কতটুকু হচ্ছে, তা জানানো হবে। চূড়ান্ত ফল পেতে কাল সকাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। সব মিলিয়ে দেশবাসীকে মোবারকবাদ জানাই।
তিনি আরও বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কিছু দুর্বলতা ও অনিয়ম বাদে সামগ্রিকভাবে এই নির্বাচন দেশবাসী উপভোগ করেছে। দেশবাসী অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে—দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। আর শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য সবার অংশগ্রহণ ও দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন। সেই কাজটি করার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, আমরা ১১ দলীয় জোট সবসময় দেশে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম এবং আছি। সচেতন ও দায়িত্বশীল জনগোষ্ঠী ও জাতি কখনো হার মানে না।
শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ আমরা দেখতে চাই। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস—২৯৯ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করবেন।