শিরোনাম

পঞ্চগড়, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ আসনে ভোটের মাঠে তুমুল আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা কাটিয়ে ওঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন তিনি।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা মো. আবু নাঈমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, আচরণবিধি পালন, গণভোট ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
ফরহাদ হোসেন আজাদ : নির্বাচিত হলে সবার আগে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে মনোযোগ দেব। এখানকার চিকিৎসা সেবা করুণ। এই আসনে দুইটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে- এরমধ্যে দেবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৪ জন চিকিৎসকের স্থলে রয়েছে মাত্র ৫ জন। একইভাবে বোদায় চিকিৎসক দরকার ৩২ জন, আছে ৬ জন।
এই চিকিৎসক সংকটের কারণে এলাকার মানুষ চিকিৎসা সেবা ঠিকভাবে পাচ্ছে না, প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রেফার্ড করা হয়। এটা আমরা দেখবোই। ইতোমধ্যে আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১০ হাজার জনগোষ্ঠী যেখানে বাস করে সেখানে একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
এছাড়া এই অঞ্চলে বেকার সমস্যা প্রকট। আমাদের ছেলেরা বিভিন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে কর্মহীন থাকলে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারটি আমরা বিবেচনায় নেবো। কৃষি পণ্য উৎপাদনে সার নিয়ে যে সমস্যা বিদ্যমান, সেটা নিরসনে উদ্যোগ নেব। কৃষক যেন স্বল্প মূল্যে পর্যাপ্ত সার পায়, তা নিশ্চিত করবো।
বোদা-দেবীগঞ্জ মহাসড়কটি ঝুঁকি মুক্ত করতে চাই। আমরা করতোয়ার কোলঘেষে দৃষ্টিনন্দন বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলবো। দেবীগঞ্জ বহু খাস জমি আছে সেখানে ইপিজেড গড়তে চাই, এতে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। ছেলেরা যেন মাদকে আসক্ত না হন, এজন্য ক্লাস ফোর থেকে শিক্ষার্থীরা স্পোর্টসের শিক্ষক পাবে। পেশাদার ফুটবলার, ক্রিকেটার বৃদ্ধিতে উদ্যোগী হতে হবে। ক্লাস সেভেন থেকেই শিক্ষার্থীদের কারগরি শিক্ষার আওতায় আনা হবে।
ব
াসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
ফরহাদ হোসেন আজাদ : জেলা প্রশাসক সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ডেকে আচরণবিধি পালনের কথা বলেছেন। আমরা নির্দেশনা মেনে আমাদের ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ছিলো- সব সরিয়ে নিয়েছি। এছাড়া সকল প্রকার রঙিন পোস্টার, লিফলেট বিতরণও বন্ধ রেখেছি।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
ফরহাদ হোসেন আজাদ : আমাদের দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় গণভোটে আমরা ‘হ্যা’ এর পক্ষে ভোট দেব।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
ফরহাদ হোসেন আজাদ : এই নির্বাচন একটি অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হবে, এখানে কেউ পেশী শক্তি প্রয়োগ করবে না- এমনটাই প্রত্যাশা করছি। তবে বাইরে থেকে যারা ভোট দেবেন, সেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং এর দুরভিসন্ধিমূলক একটা আওয়াজ পাচ্ছি। সেক্ষেত্রে আমি মনে করব- যারা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবেন, তারা যেন কোন ক্রমেই ইঞ্জিনিয়ারিং করতে না পারে, সূক্ষ্ম কারচুপি করতে না পারে।
আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং আন্দোলন সংগ্রামে শ্লোগান ছিল- ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’। এ জন্য ভোটাররা ইচ্ছেমত ভোট কেন্দ্রে আসবে এবং তার পছন্দের প্রতীকে ভোট দেবে। এ ক্ষেত্রে কেউ যেন কাউকে হুমকি, ধামকি দিতে না পারে।
বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ২০টি ইউনিয়নে ১৩২ ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে।
এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ২৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৩৬৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৯৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।
এ আসনে বৈধ প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। পরে আদালতের নির্দেশ ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী ও ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের জেলা সভাপতি মো. কামরুল হাসান প্রধান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির উপজেলা কমিটির শূরা সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সফিউল আলম (সফিউল্লাহ সুফি)।
এছাড়া রয়েছেন বাংলাদেশ জাসদ মনোনীত মো. ইমরান আল আমিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) মনোনীত মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত আশরাফুল আলম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলে মাহমুদ হাসান সুমন।