বাসস
  ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৭
আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:০৩

বেকারত্ব দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেব: পঞ্চগড়-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ (বোদা ও দেবীগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মো. কামরুল হাসান প্রধান। ছবি: বাসস

পঞ্চগড়, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ (বোদা ও দেবীগঞ্জ) আসনে বেশ সরব রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মো. কামরুল হাসান প্রধান। 


দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা কাটিয়ে ওঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন তিনি। 

পাশাপাশি প্রস্তাবিত জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছেন এই সংসদ সদস্য প্রার্থী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা মো. আবু নাঈম।  

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

কামরুল হাসান প্রধান : এই এলাকার স্বাস্থ্য খাতের বেহাল অবস্থা। নির্বাচিত হলে সবার আগে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে মনোযোগ দেব। এখানে উন্নত চিকিৎসা নেই। অল্প সমস্যাতেও রোগীদের দৌড়াতে হয় বিভাগীয় শহরে। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় চিকিৎসা কেন্দ্র পৌঁছানো আগেই অনেক কিছু ঘটে যায়। হাতের নাগালে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলে এ এলাকার মানুষের ভোগান্তি অনেক কমে আসবে।

এছাড়া এই অঞ্চলের এক বড় অংশ বেকার। বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। দেবীগঞ্জে বহু খাস জমি আছে সেখানে ইপিজেড হওয়ার কথা ছিল কিন্তু হয়নি। নির্বাচিত হলে সেটি বাস্তবায়ন করতে চাই। এতে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। এর বাইরেও শিক্ষাসহ সামগ্রিক ব্যাপারে উন্নয়নের প্ল্যান রয়েছে।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

কামরুল হাসান প্রধান : রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে বেঁধে দেয়া আচরণবিধি মেনে চলতে আমরা বাধ্য। 

আমরা এর ব্যত্যয় ঘটাতে চাই না। আমাদের নেতাকর্মীদের এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া আছে। যেহেতু ইসলামী আন্দোলন একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন, সেহেতু আমরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করবো না।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

কামরুল হাসান প্রধান : আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই। এ জন্য আমাদের অবস্থান ‘হ্যা’- এর পক্ষে। এটা আমাদের ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্র থেকে দেওয়া সাংগঠনিক নির্দেশনাও।

বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

কামরুল হাসান প্রধান : অবশ্যই এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হবে- এমন প্রত্যাশা করছি। একইসঙ্গে জনগণ ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেবেন আশা করি। আমরা বিজয়ী হয়ে সংসদে যাবো।

বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ২০টি ইউনিয়ন ও ১৩২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। 

আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ২৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৩৬৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৯৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন।

এ আসনে বৈধ প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। পরে আদালতের নির্দেশ ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী ও ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের জেলা সভাপতি মো. কামরুল হাসান প্রধান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির উপজেলা কমিটির শূরা সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সফিউল আলম (সফিউল্লাহ সুফি)। 

এছাড়া রয়েছেন বাংলাদেশ জাসদ মনোনীত মো. ইমরান আল আমিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) মনোনীত মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত আশরাফুল আলম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলে মাহমুদ হাসান সুমন।